মেক্সিকোর ত্রিকোটি অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা গিলার্মো ডেল টোরো, তার নতুন চলচ্চিত্র ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ সম্পর্কে আলোচনা করতে হলিউড রিপোর্টারের ‘অওয়ার্ডস চ্যাটার’ পডকাস্টের এক পর্বে উপস্থিত হন। এই অনুষ্ঠানটি চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটিতে ৫০০ জন চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীর সামনে রেকর্ড করা হয় এবং নতুন ছবির সৃষ্টির পেছনের গল্প উন্মোচন করে।
ডেল টোরোর ক্যারিয়ার তিনটি অস্কার, বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। ৬১ বছর বয়সে তিনি এখন পর্যন্ত ১৩টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে ‘ক্রোনোস’, ‘হেলবয়’, ‘প্যানস ল্যাবিরিন্থ’, ‘দ্য শেপ অফ ওয়াটার’, ‘নাইটমেয়ার অ্যালি’ এবং ‘পিনোকিও’ উল্লেখযোগ্য।
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন চলচ্চিত্রের ধারণা ডেল টোরোর জন্য শৈশবের স্মৃতি থেকে উদ্ভূত। তিনি ১৯৩১ সালের বোরিস কার্লফের ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্র প্রথম দেখেছিলেন এবং একই সঙ্গে মেরি শেলির ১৮১৮ সালের গথিক উপন্যাসটি পড়েছিলেন। এই দু’টি কাজের সঙ্গে তার সংযোগ তাকে আজ পর্যন্ত এই গল্পের প্রতি আকৃষ্ট রেখেছে।
ডেল টোরো বলেন, ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন গল্পটি পিতামাতা ও সন্তান, ধর্মীয় গ্রন্থের প্রতীক, ক্ষমা ও গ্রহণের বিষয়গুলোকে একসঙ্গে সংযুক্ত করে। তিনি এই থিমগুলোকে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছেন, যাতে আধুনিক দর্শকের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, শেলির মূল উপন্যাসের অনেক দৃশ্য ও অনুভূতি পূর্বের কোনো চলচ্চিত্রে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ডেল টোরো এই ফাঁকগুলো পূরণ করতে চেয়েছেন এবং তার নিজস্ব শৈলীতে একটি সরাসরি অভিযোজন তৈরি করেছেন, যেখানে তিনি নিজেকে আধুনিক যুগের দানবের মাস্টার হিসেবে উপস্থাপন করেন।
একটি মুহূর্তে তিনি নিজেকে জনি ক্যাশের ‘হার্ট’ গানের সঙ্গে তুলনা করেন, যদিও মূল গানের রচয়িতা ট্রেন্ট রেজনর। তিনি বলেন, গানটি তার হৃদয়ের একমাত্র সুর, এবং সেই সুরই এখন ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
ডেল টোরোর চলচ্চিত্রে তিনি প্রায়শই লেখক, সহ-লেখক এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন। তার অধিকাংশ কাজেই তিনি স্ক্রিপ্টের মূল দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রোডাকশন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এই বহুমুখী ভূমিকা তার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পের প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ মুক্তির পর সমালোচকদের কাছ থেকে ৮৫ শতাংশের উচ্চ রেটিং পেয়েছে এবং দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোটেন টমেটোসের স্কোর এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ভিউ সংখ্যা থেকে স্পষ্ট যে, চলচ্চিত্রটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
অনেক সমালোচক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমী এখন পর্যন্ত ডেল টোরোর সর্বোত্তম কাজ হিসেবে এই ছবিটিকে উল্লেখ করছেন। তার পূর্বের সাফল্য সত্ত্বেও, ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পডকাস্টের সময়, চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা ডেল টোরোর সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং চলচ্চিত্রের থিম সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করতে পেরেছেন। এই ইন্টারঅ্যাকশনটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ডেল টোরোর গল্পের গভীরতা এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আলোচনা শোনার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, যা তার কাজের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহকে নির্দেশ করে।
গ্লোবাল সিনেমা জগতে ডেল টোরোর অবস্থান এখনো অটুট, এবং তার নতুন কাজটি তার শিল্পকর্মের ধারাবাহিকতা এবং উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তিনি বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে রয়ে গেছেন।
‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্রটি এখন স্ট্রিমিং সেবায় উপলব্ধ, এবং দর্শকদের জন্য এটি দেখার পর মেরি শেলির মূল উপন্যাসের সঙ্গে তুলনা করা একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। ডেল টোরোর এই প্রকল্পটি ক্লাসিক সাহিত্যের আধুনিক রূপান্তরের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
চলচ্চিত্রের ভক্ত ও সাহিত্যপ্রেমী উভয়ই এই কাজটি উপভোগ করতে পারেন, এবং এটি তাদেরকে ক্লাসিক গথিক গল্পের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে। ডেল টোরোর ৫০ বছরের স্বপ্নের এই ফলাফল, আধুনিক সিনেমা ও ঐতিহাসিক সাহিত্যের সংযোগের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।



