28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগ্যাস সংকট বাড়াচ্ছে গৃহস্থালীর ব্যয় ও ব্যবসার চাপ

গ্যাস সংকট বাড়াচ্ছে গৃহস্থালীর ব্যয় ও ব্যবসার চাপ

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাসের তীব্র ঘাটতি গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। গ্যাস বিল নিয়মিত পরিশোধের পরেও বাসিন্দারা রান্না ও গৃহস্থালি কাজের জন্য বিকল্প জ্বালানি খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি গৃহস্থালীর ব্যয় বাড়িয়ে ব্যবসার মার্জিনকে সংকুচিত করছে।

গ্যাস না পাওয়ায় অনেক পরিবার রাইস কুকার, বৈদ্যুতিক চুলা এবং মাটির চুলার দিকে ঝুঁকেছে। নতুন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ বাড়ছে, যদিও গ্যাসের মাসিক বিল এখনও দিতে হচ্ছে। ফলে গৃহস্থালীর মোট ব্যয় দুই গুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার বাড়ার ফলে বিদ্যুৎ বিলেও তীব্র বৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের পাশাপাশি কাঠের চুলা ব্যবহারকারী পরিবারগুলোকে কাঠের দাম ও পরিবহন খরচও বহন করতে হচ্ছে। এই দ্বৈত ব্যয় গৃহস্থালীর আর্থিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহের ঘাটতি হোটেল ও রেস্টুরেন্টের খাবারের দামকে প্রভাবিত করেছে। গ্যাসের ঘাটতির ফলে রান্নার সময় ও গুণগত মানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা সরাসরি গ্রাহকের পকেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

অটোগ্যাস স্টেশন ও সিএনজি ট্যাংকের ঘাটতিও চালকদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। অনেক ড্রাইভার অর্ধেক গ্যাসই পেতে পারছেন না, ফলে তারা ব্যয়বহুল পেট্রোল ও অকটেনের দিকে ঝুঁকছে। গ্যাসের সরবরাহ না হওয়ায় যানবাহনের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমান এলপিজি সংকটের ফলে দেশের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় দেড় লাখ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তিতে আছেন।

স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে গ্যাস না পাওয়ায় যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং রাস্তায় জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বেশ কয়েকটি স্টেশনই দুই দিন আগে থেকে গ্যাস সরবরাহ না পেয়ে অর্ধেকেরও বেশি স্টেশন গ্যাস পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সিএনজি গ্যাসের সরবরাহও কমে গিয়েছে, ফলে স্টেশন মালিকদের ব্যবসা হুমকির মুখে।

মিরপুর শ্যাওড়াপাড়া বাসিন্দা শফিকুর রহমানের মতে, শীতের সময় গ্যাসের সংকট এত বাড়ে যে ঘরের চুলা জ্বালাতেও পারছেন না। তিনি সম্প্রতি রাইস কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন, যা বাড়তি ব্যয় সৃষ্টি করেছে, তবু মাসিক গ্যাস বিল পরিশোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার অভিজ্ঞতা গৃহস্থালীর উপর গ্যাস সংকটের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়িয়ে গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং কাঠের চাহিদা বাড়ার ফলে পরিবেশগত ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। গৃহস্থালি ও ব্যবসা খাতের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক নীতি ও জ্বালানি সরবরাহের পুনর্গঠনকে প্রয়োজনীয় করে তুলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments