19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান জেএফ‑১৭ জেট ও শাহপার ড্রোনের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা...

ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান জেএফ‑১৭ জেট ও শাহপার ড্রোনের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে

ইসলামাবাদে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সজাফ্রি স্যামসোয়েদিন পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবার সিধু সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ও সম্ভাব্য অস্ত্র ক্রয়ের বিষয় আলোচনা হয়। বৈঠকে জেএফ‑১৭ মাল্টি‑রোল যোদ্ধা জেট এবং নজরদারি‑আক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন শাহপার ড্রোনের বিক্রয় সম্ভাবনা উঠে আসে।

সোর্সগুলো জানায়, আলোচনায় ৪০টিরও বেশি জেএফ‑১৭ জেটের সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং ইন্দোনেশিয়া শাহপার ড্রোনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ডেলিভারির সময়সূচি ও চুক্তির মেয়াদ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিকো রিকার্ডো সিরাইত রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সংলাপ, প্রতিরক্ষা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক উপকারে ভিত্তিক সহযোগিতা অনুসন্ধান। তিনি উল্লেখ করেন, এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও একই বৈঠক নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাথেও আলাপ করেছেন, যেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা গতিশীলতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রতি লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি ও সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি আলোচনার মধ্যে রয়েছে, যা তাকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। জেএফ‑১৭ ও শাহপার ড্রোনের সম্ভাব্য রপ্তানি এই কৌশলগত পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করছে, পাকিস্তানের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি করে তার আকাশীয় ক্ষমতা বাড়াতে চায়। জেএফ‑১৭ জেট, যা পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উন্নয়ন, বহুমুখী মিশন সম্পাদনে সক্ষম, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান ফ্লিটের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শাহপার ড্রোন, যা নজরদারি ও নির্ভুল আক্রমণ উভয়ই করতে পারে, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদিও ডেলিভারির শর্তাবলী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে উভয় পক্ষের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার সূচক এই চুক্তির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পাকিস্তানের এই ধরনের রপ্তানি উদ্যোগ তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, যা ঐতিহ্যগতভাবে ইউরোপীয় ও আমেরিকান সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল, নতুন সরবরাহ চ্যানেল গড়ে তুলতে চাইছে, যা তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই আলোচনার পটভূমিতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তন এবং চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। জেএফ‑১৭ প্রকল্পের মূল অংশ চীনা প্রযুক্তি, যা পাকিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভাগাভাগি করা হলে উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থে সমন্বয় ঘটবে।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার সামরিক আধুনিকায়নের জন্য ড্রোনের চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে সমুদ্রসীমা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে। শাহপার ড্রোনের উচ্চ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং স্বল্প খরচের সুবিধা ইন্দোনেশিয়ার জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নেয়া হলে, উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। এ ধরনের সমন্বিত সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যকে নতুন দিক দিয়ে গঠন করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments