ভোলা শহরের কালিনাথ বাজারের কাছে অবস্থিত বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারে গর্ভবতী নারীর রক্তদানের ভুলের ফলে মৃত্যু ঘটেছে। রোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার ওপর অভিযোগ জানিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মৃত্যুপ্রাপ্ত নারী লামিয়া আক্তার, ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবহাওয়া অফিসের কর্মী মো. শরীফের স্ত্রী। তিনি গর্ভধারণের শেষ পর্যায়ে ছিলেন এবং জরুরি শর্তে হাসপাতালে ভর্তি হন।
বুধবার বিকালে লামিয়া আক্তারকে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তার গর্ভধারণের অবস্থা জরুরি ছিল, ফলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর রোগীর রক্তের ঘাটতি পূরণে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন দেখা দেয়। চিকিৎসক ও নার্সের মতে রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ (O+), তবে সঞ্চালনের সময় ‘বি পজিটিভ’ (B+) রক্ত ব্যবহার করা হয়।
রক্তের গ্রুপের এই পার্থক্য রোগীর শারীরিক অবস্থায় দ্রুত অবনতি ঘটায়। চিকিৎসা দল রক্তের অমিল সনাক্ত করার পরেও সঞ্চালন চালিয়ে যাওয়ায় রোগীর রক্তচাপ হ্রাস পায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
অবস্থা খারাপ হওয়ায় লামিয়াকে কাছাকাছি বর্ধালশে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি সোমবার সন্ধ্যায় শেষ শ্বাস ত্যাগ করেন।
লামিয়ার মৃত্যুর পর রোগীর আত্মীয়স্বজন রক্তদানের ভুলের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ শুরু করেন। প্রতিবাদকারীরা হাসপাতালের দরজা বন্ধ করে রাখেন এবং কর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি হন।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী আত্মীয়স্বজনের মতে, রক্তের গ্রুপের অমিলের তথ্য হাসপাতাল থেকে গোপন করা হয় এবং রোগীর পরিবারকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।
প্রতিবাদ চলাকালীন হাসপাতালের কর্মীরা পালিয়ে যান, ফলে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভোলা মডেল থানার পরিদর্শক মো. জিয়া উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি আত্মীয়স্বজনের অভিযোগ শোনার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
পুলিশের মতে, রক্তের গ্রুপের অমিলের বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রক্তের গ্রুপের সামঞ্জস্যতা রোগীর নিরাপত্তার জন্য মৌলিক শর্ত। ‘ও পজিটিভ’ রক্ত ‘বি পজিটিভ’ রক্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে রক্তের অমিল ট্রান্সফিউশন গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া এবং হেমোলাইসিস ঘটাতে পারে।
রোগীর আত্মীয়স্বজনকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় রক্তের গ্রুপ নিশ্চিত করে লিখিত রেকর্ড রাখবেন এবং রক্ত সঞ্চালনের আগে পুনরায় যাচাই করবেন। এছাড়া, রক্তের অমিলের সন্দেহ হলে তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় মতামত নেয়া উচিত।
এই ঘটনার পর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের রক্ত সঞ্চালনের প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা এবং রোগীর রক্তের গ্রুপ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোর করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আপনার মতামত জানাতে পারেন।



