28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহাঙ্গেরি পোল্যান্ডের প্রাক্তন ন্যায়বিচার মন্ত্রী জিয়োব্রোর জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করেছে

হাঙ্গেরি পোল্যান্ডের প্রাক্তন ন্যায়বিচার মন্ত্রী জিয়োব্রোর জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করেছে

বুদাপেস্টে হাঙ্গেরি সরকার পোল্যান্ডের প্রাক্তন ন্যায়বিচার মন্ত্রী জবিগনিয়েভ জিয়োব্রোকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করেছে। জিয়োব্রো বর্তমানে ২৬টি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা। তহবিলটি মূলত অপরাধের শিকারদের সহায়তা ও অপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য গৃহীত ছিল, তবে তাকে এই তহবিলের মাধ্যমে পার্টি ও সমর্থকদের জন্য অর্থ সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের তালিকায় জিয়োব্রোর নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৫ মিলিয়ন জ্লোটি (প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের ইসরায়েলি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ক্রয়ের অনুমোদন। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, এই সফটওয়্যারটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোবাইল ফোনে গোপনভাবে হ্যাক করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে পোল্যান্ডের বর্তমান সংহতি সরকার ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি তদন্ত দল একমত যে, এই প্রযুক্তি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে।

জিয়োব্রো এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে দেখিয়ে, হাঙ্গেরি সরকারের আশ্রয় গ্রহণের সিদ্ধান্তের পেছনে এই কারণকে উল্লেখ করেছেন। তিনি এক্স-এ লিখে জানান, “পোল্যান্ডে রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে আমি হাঙ্গেরি সরকারের দ্বারা প্রদত্ত আশ্রয় গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তদুপরি, তিনি নিজের অবস্থানকে “রাজনৈতিক দস্যুতা ও অবৈধতা বিরোধে লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করে, বর্তমান পোল্যান্ডের সরকারকে “ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এক স্বৈরাচারী শাসন” বলে সমালোচনা করেন।

হাঙ্গেরি কর্তৃক অন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশের নাগরিককে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করা ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে হাঙ্গেরি সরকারে এই ধরনের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়; গত বছরও একই দেশে পোল্যান্ডের প্রাক্তন উপ-ন্যায়বিচার মন্ত্রী মার্সিন রোমানোভস্কি হাঙ্গেরিতে আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং তা প্রদান করা হয়েছিল। উভয়ই ন্যায়বিচার তহবিলের অপব্যবহার এবং পার্টি-সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত।

জিয়োব্রো ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ডানপন্থী ল’ অ্যান্ড জাস্টিস (PiS) শাসনের অধীনে ন্যায়বিচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। PiS সরকার ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের রাজনৈতিক সংযোগ দীর্ঘদিনের, যা এই আশ্রয় প্রদানকে কেবল আইনি নয়, কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হলে জিয়োব্রো সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। পোল্যান্ডের বর্তমান সরকার এই মামলাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করছে এবং জিয়োব্রোর বিরুদ্ধে ত্বরিত ন্যায়বিচার দাবি করছে।

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রাডস্লাভ সিকোরস্কি জানিয়েছেন, তার নিজের ফোনও হ্যাক হওয়ার সন্দেহ রয়েছে, যা পেগাসাসের ব্যবহারকে আরও স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্কের স্ত্রী ও কন্যার ফোনেও হ্যাকিংয়ের অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

এই ঘটনাটি পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জিয়োব্রোর আশ্রয় গ্রহণের পর, সরকারী দল ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই তীব্রতর হতে পারে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নও সম্ভব। ভবিষ্যতে হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের মধ্যে এই ধরনের কেসের প্রভাব কী হবে, তা ইউরোপীয় ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণের অধীনে থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments