বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে নাদিম জাহাওই, যিনি ২০২১ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বোরিস জনসনের অধীনে দু’মাসের চ্যান্সেলর ছিলেন, রিফর্ম ইউকে-তে যোগদান ঘোষণা করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে “অন্ধকার ও বিপজ্জনক” বলে বর্ণনা করে, দেশের জন্য “একটি মহান বিপ্লব”ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অপরাধের বৃদ্ধি এবং অবৈধ অভিবাসনের তীব্রতা তুলে ধরেন।
জাহাওই ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রী পদে ছিলেন এবং কনজারভেটিভ পার্টির অন্যতম উচ্চপদস্থ প্রাক্তন সদস্য। তার চ্যান্সেলরিত্বের সময়কাল সংক্ষিপ্ত হলেও, তিনি পার্টির অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রিফর্ম ইউকে-তে তার যোগদানকে তিনি পার্টির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিগেল ফারেজের নেতৃত্বে গঠিত দলকে দেশের সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে দেখছেন।
প্রেস কনফারেন্সে ফারেজ প্রায় বিশজন প্রাক্তন কনজারভেটিভ এমপি-কে রিফর্মে স্বাগত জানান। জাহাওইসহ এই প্রাক্তন সদস্যদের যোগদানকে পার্টির প্রভাব বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ফারেজের মতে, রিফর্ম ইউকে এখনো কনজারভেটিভসের বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, এবং এই নতুন ত্যাগগুলোকে “কনজারভেটিভস ২.০” হিসেবে নয়, বরং স্বতন্ত্র একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একই সময়ে কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জাহাওই কেমি বেডেনচের সঙ্গে হাউস অব লর্ডসের সিটের জন্য দু’বার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানায়। শেষবারের আবেদন কয়েক মাস আগে করা হয়। তবে তার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তাকে নিউ ইয়ার্স অনার্স তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
জাহাওই এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কোনোভাবে পিয়ারেজের জন্য অনুরোধ করেননি। তিনি উল্লেখ করেন, বেডেনচের সঙ্গে কথোপকথনটি পার্টি রক্ষা ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরামর্শের জন্য ছিল, এবং এই আলোচনার পরই তিনি রিফর্ম ইউকে-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তার মতে, নিগেল ফারেজের দলই এখনো যুক্তরাজ্যের সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে সক্ষম।
ফারেজ জাহাওইর যোগদানের পর রিফর্ম ইউকে-কে কনজারভেটিভসের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার তার দৃঢ়সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিফর্মের লক্ষ্য কনজারভেটিভ পার্টিকে পুনর্গঠন করা নয়, বরং ব্রেক্সিটের জন্য লড়াই করা সময়ের তার নিজস্ব অবস্থান বজায় রাখা। ফারেজের মতে, রিফর্মের নীতি ও কৌশল কনজারভেটিভসের থেকে আলাদা, যদিও কিছু প্রাক্তন সদস্যের যোগদান পার্টির প্রভাব বাড়াতে পারে।
কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে একটি স্পোকসম্যানের মন্তব্যে বলা হয়, জাহাওইর রিফর্মে যোগদান পার্টির অভ্যন্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তবে পার্টি তার নীতি ও লক্ষ্য বজায় রাখবে। পার্টি জাহাওইকে তার পূর্ববর্তী সেবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে, ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক পথের জন্য শুভকামনা জানায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জাহাওইর মতো উচ্চপদস্থ প্রাক্তন সদস্যের রিফর্মে যোগদান পার্টির সদস্যসংখ্যা ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রিফর্মের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং কনজারভেটিভসের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখার জন্য ফারেজের কৌশলগত পদক্ষেপগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ত্যাগগুলো যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



