27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিনিউ জার্সিতে ক্লথঅফ অ্যাপের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গভীর নকল পর্নের মোকাবেলা...

নিউ জার্সিতে ক্লথঅফ অ্যাপের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গভীর নকল পর্নের মোকাবেলা কঠিন প্রমাণিত

নিউ জার্সির একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে ক্লথঅফ (ClothOff) নামের অ্যাপের মাধ্যমে তার ইনস্টাগ্রাম ছবির নকল তৈরি করা হয়, ফলে ইয়েল ল’ স্কুলের একটি ক্লিনিক অক্টোবর মাসে আইনি পদক্ষেপ নেয়। এই মামলায় অ্যাপটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, সব নকল ছবি মুছে ফেলা এবং সেবার বন্ধের দাবি করা হয়েছে। ক্লথঅফ দুই বছর ধরে তরুণী নারীদের অনলাইন নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে এবং এখন পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে কার্যকরী আইনি বাধা গড়ে তোলা কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে।

ক্লথঅফ প্রথমে গুগল প্লে ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের মতো প্রধান অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং বেশিরভাগ সামাজিক নেটওয়ার্কে তার উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে অ্যাপটি এখনও ওয়েবসাইট এবং টেলিগ্রাম বটের মাধ্যমে প্রবেশযোগ্য, যা ব্যবহারকারীদেরকে সহজে নকল ছবি তৈরি করার সুযোগ দেয়। এই ধরনের অ্যাপের দ্রুত পুনরায় প্রকাশ এবং বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের সীমাবদ্ধতা আইনি প্রয়োগকে জটিল করে তুলেছে।

ইয়েল ল’ স্কুলের ক্লিনিকের দল অক্টোবরের শেষের দিকে একটি অভিযোগ দায়ের করে, যেখানে ক্লথঅফের অপারেটরদেরকে সব কন্টেন্ট মুছে ফেলা এবং সেবার বন্ধের আদেশ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগের পূর্ণপাঠ্য অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে অ্যাপের মালিকানা ও পরিচালনার গঠন বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে ক্লথঅফের নিবন্ধন ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপে, তবে প্রকৃত পরিচালনা সম্ভবত বেলারুশের একটি ভাইবোনের হাতে। এছাড়াও এটি একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই মামলাটি ঘটার সময় ইলন মাস্কের xAI দ্বারা উৎপাদিত অ-সম্মতিপ্রাপ্ত পর্নোগ্রাফির তরঙ্গও চলছিল, যেখানে অল্পবয়সী শিশুরা লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছিল। xAI-র জেনারেটিভ মডেলগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল কন্টেন্ট তৈরি করে, যা শিশু যৌন নির্যাতনের সবচেয়ে ক্ষতিকারক রূপ হিসেবে বিবেচিত। এমন কন্টেন্টের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রচার সবই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ এবং প্রধান ক্লাউড পরিষেবাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি, মূল হোক বা কৃত্রিমভাবে পরিবর্তিত, আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এবং তা সংরক্ষণ বা বিতরণ করা অপরাধ। ক্লথঅফের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর তৈরি কন্টেন্টকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার করতে অক্ষম, ফলে আইনি প্রয়োগের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হলেও, প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব নির্ধারণে আইনি কাঠামো এখনও অপর্যাপ্ত। ফলে ভুক্তভোগীরা আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

মামলায় মূল বাদী হলেন নিউ জার্সির এক গোপনীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যার সহপাঠীরা ক্লথঅফ ব্যবহার করে তার ইনস্টাগ্রাম ছবিগুলো পরিবর্তন করে। ছবিগুলো তার ১৪ বছর বয়সে তোলা মূল ফটো থেকে তৈরি, এবং এআই-র মাধ্যমে পরিবর্তিত সংস্করণগুলোকে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি হিসেবে আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এই পরিবর্তিত ছবিগুলো স্পষ্টভাবে অবৈধ, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতার কারণে মামলাটি চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অধিকাংশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সন্দেহ করে যে সন্দেহভাজনদের ডিভাইস থেকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ বের করা কঠিন, বিশেষ করে যখন কন্টেন্ট অনলাইন সার্ভার বা টেলিগ্রাম বটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ফলে তারা মামলাটি প্রত্যাখ্যান করে, যদিও ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি দেখায় যে বর্তমান আইনি কাঠামো ডিজিটাল নকল পর্নের মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়।

ক্লথঅফের মতো অ্যাপের অপারেশনকে বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট মুছে ফেলার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুততা প্রয়োজন। ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সমন্বয় করা কঠিন, তবে আইনি দলটি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক আইনি নেটওয়ার্কের সহায়তা নিতে চায়। এছাড়া, টেলিগ্রাম ও অন্যান্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মকে কন্টেন্টের তদারকি ও রিপোর্টিং সিস্টেম শক্তিশালী করতে হবে।

প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে এআই-ভিত্তিক ছবি জেনারেটরগুলো দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্লথঅফের মতো অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীকে সহজে নকল ছবি তৈরি করার সুবিধা দেয়, যা গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বড় হুমকি তৈরি করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহার হয়, তবে অনলাইন শোষণ ও যৌন নির্যাতনের পরিসর আরও বাড়তে পারে।

এই মামলার মাধ্যমে দেখা যায় যে আইনি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণের মধ্যে ফাঁক পূরণ করা জরুরি। ক্লথঅফের অপারেটরদের সনাক্তকরণ, তাদের সম্পদ জব্দ এবং কন্টেন্ট মুছে ফেলার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআই-উৎপন্ন কন্টেন্টের স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ও ব্লকিং সিস্টেমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সারসংক্ষেপে, নিউ জার্সির উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ক্লথঅফের মাধ্যমে তৈরি নকল পর্নের মামলা প্রযুক্তি, আইন ও নৈতিকতার জটিল সংযোগকে প্রকাশ করে। যদিও অ্যাপটি প্রধান অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবু ওয়েব ও টেলিগ্রাম বটের মাধ্যমে তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইয়েল ল’ স্কুলের ক্লিনিকের আইনি পদক্ষেপ এই সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তবে বাস্তবিকভাবে দায়ী পক্ষকে সনাক্ত ও শাস্তি দেওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এআই-নির্মিত যৌন কন্টেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকরী আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments