আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (AFCON) এই বছর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মহাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক গুণগত মান স্পষ্টভাবে দেখা যায়। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে দেখা যায় যে, ইউরোপীয় লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলোয়াড়দের পরিচিতি এই মহাদেশের ফুটবলের মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।
AFCON কেবলমাত্র ব্যক্তিগত খেলোয়াড়ের দক্ষতা নয়, বরং দেশের সংগঠন ও অবকাঠামোর সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মরক্কোর প্রস্তুতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে, কারণ দেশটি ২০৩০ বিশ্বকাপের স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে সহ-আয়োজক হিসেবে তালিকাভুক্ত।
মরক্কোর ছয়টি শহর—রাবাত, ট্যাংগার, কাসাব্লাঙ্কা, আগাদির, মারাকেশ এবং ফেজ—এইবারের আফকনে ম্যাচের আয়োজক হিসেবে কাজ করেছে এবং একই সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত। রাবাত ও ট্যাংগারের স্টেডিয়ামগুলো ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের এবং ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
কাসাব্লাঙ্কায় ১১৫,০০০ সিটের নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে আফ্রিকান ফুটবলের সর্ববৃহৎ ভেন্যু হবে। আগাদির, মারাকেশ ও ফেজের বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোতে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের চাহিদা পূরণ করা যায়।
ম্যাচের মাঠের গুণগত মানও প্রশংসনীয়। অপ্রত্যাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের পরেও পিচগুলো সমানভাবে চমৎকার অবস্থায় ছিল, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সহায়তা করেছে। এই পরিস্থিতি সম্ভবত টুর্নামেন্টের ফলাফলকে পূর্বাভাসযোগ্য করে তুলেছে; আফ্রিকার শীর্ষ দশ র্যাঙ্কের মধ্যে আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে।
পরিবহন ব্যবস্থার দিক থেকে মরক্কোর উচ্চগতির আল-বরাক রেল লাইন রাবাত থেকে ট্যাংগার পর্যন্ত চালু রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য দ্রুত ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই রেললাইনকে কাসাব্লাঙ্কা ও মারাকেশ পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশব্যাপী সংযোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
সাধারণ ট্রেন সেবাও বর্তমানে ভালো মানের, তবে বিশ্বকাপের সময়ে সেগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে এই ট্রেনগুলো আগাদির পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে দক্ষিণে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
আভ্যন্তরীণ বিমান সংযোগের সীমাবদ্ধতা একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দেশীয় ফ্লাইটের সংখ্যা সীমিত হওয়ায়, ভবিষ্যতে এয়ারলাইনগুলোকে সম্প্রসারণ করা এবং নতুন রুট চালু করা জরুরি হবে, যাতে ভক্ত ও দলের জন্য সময়মত পরিবহন নিশ্চিত করা যায়।
মরক্কোর হোটেল ও আবাসন সুবিধা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের, যা খেলোয়াড়, কোচ এবং ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প প্রদান করে। টুর্নামেন্টের সময়ে হোটেল দখল কমে না, ফলে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের সময়ে অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি তৈরি করার প্রয়োজন কমে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, মরক্কোর অবকাঠামো—স্টেডিয়াম, রেল, বিমান ও হোটেল—২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত বলে বিবেচিত। AFCON-এ প্রদর্শিত সফলতা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানচিত্রে আরও দৃঢ় অবস্থানে রাখবে।
বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে মরক্কোর ভূমিকা শুধুমাত্র স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে না, বরং আফ্রিকান ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
অবশেষে, আফকনের সফল আয়োজন এবং মরক্কোর অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা দেখায় যে, ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য দেশটি প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানদণ্ডে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবে।



