১২ জানুয়ারি বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ধরমন্ডল গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াতের বিষয়টি নিয়ে দুই দলের মধ্যে মারামারির ফলে ধরা পড়ে ৬২ বছর বয়সী জিতু মিয়া, যিনি ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য, মৃত্যুবরণ করেন।
মিয়ার দেহে গুরুতর আঘাতের শিকার হওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়, তবে চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনার ফলে অন্তত পনেরো জনেরও শারীরিক ক্ষতি হয় এবং তারা চিকিৎসা সেবা পায়।
ঘটনা ঘটে ধরমন্ডল গ্রাম মসজিদবাজার এলাকায়, যেখানে স্থানীয় রমজান মেম্বার এবং জিতু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে দাওয়াতের বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে, ফলে কথোপকথন দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রতিপক্ষের লোকজনকে দাওয়াত দেওয়ার পর জিতু মিয়া রাগান্বিত হয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন। কথোপকথনের মাঝখানে দু’দলই একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায় এবং সংঘর্ষ এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।
পুলিশ জানায়, উভয় দলই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় দাওয়াতের বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) ওবায়দুর রহমানের মতে, এই ধরনের বিরোধ দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফল।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল থেকে আহতদের চিকিৎসা নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গুরমে শক ও রক্তক্ষরণের শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
মিয়ার পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে শোক প্রকাশ করে এবং পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানায়। তারা জানান, জিতু মিয়া সম্প্রতি স্থানীয় রমজান মেম্বারের সঙ্গে ক্ষমতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিলেন।
পুলিশের মতে, এখনো কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় নেতারা তদন্তে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অধিক তদন্তে জানা যাবে কীভাবে দাওয়াতের বিষয়টি এত বড় সংঘর্ষের রূপ নেয় এবং কোন কোন আইনগত ধাপ অনুসরণ করা হবে। বর্তমানে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সমাজে এই ধরনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, গ্রামীণ এলাকায় দাওয়াত ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের হাতিয়ার বানানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের সংঘর্ষ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



