১১ জানুয়ারি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (JU) হস্টেলগুলোতে বিড়ালদের প্রতি ধারাবাহিক নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি আইনি নোটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার মোঃ তৌফিকুল ইসলাম খান, ALB অ্যানিমাল শেল্টারের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সোহেল আহমেদ, প্রোক্টর ড. এ.কে.এম. রশিদুল আলম এবং জাহানারা ইমাম হলের প্রোভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে সম্বোধন করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন হস্টেলে বিড়ালদের ওপর অমানবিক আচরণ করা হয়েছে; গর্ভবতী বিড়ালকে ক্যাম্পাসের বাইরে ফেলা, পুরুষ বিড়ালের অঙ্গ কেটে ফেলা, বহু তলায় গড়িয়ে থাকা ভবন থেকে কিটনগুলোকে নিক্ষেপ করা এবং গরম পানির ঢালাইয়ের মাধ্যমে প্রাণীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ইত্যাদি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই ধরনের কাজগুলোকে ২০১৯ সালের অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টের ধারা ৩, ৬ এবং ৭ লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংবিধানের ধারা ১৮এ অনুসারে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দায়িত্ব পালনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ জাহানারা ইমাম হলের প্রোভোস্টের দ্বারা জারি করা একটি চিঠির প্রতি কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ঐ চিঠিতে বিড়ালদেরকে “বাধা” এবং “রেবিসের ঝুঁকি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা নোটিশে অবৈধ ও বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একজন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা শাওন জানান যে, গত বছর থেকে ক্যাম্পাসে বিড়ালদের প্রতি নির্যাতন বাড়তে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি; বরং কিছু হল ইউনিয়নের সদস্যরা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে ঘটনাগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছে।
শিক্ষার্থীরা শেষমেশ ALB অ্যানিমাল শেল্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহ করে নোটিশের ভিত্তি তৈরি করে। শেল্টারটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্যারিস্টারকে নিযুক্ত করে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলরা ন্যায়বিচার পায়।
নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব অবৈধ কাজ—যেমন বিড়ালদের স্থানান্তর, হত্যা বা বিষক্রিয়া—বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে প্রাণী নির্যাতনের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং আহত বিড়ালদের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করার দাবি করা হয়েছে।
নোটিশের শর্ত মেনে না চললে, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও সংবিধানিক দায়িত্বের প্রতি অবহেলার পরিণতি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বৈধভাবে প্রাণী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত দায়িত্ব পালন করা উভয়ই শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্বের অংশ। এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রাণী কল্যাণের জন্য স্পষ্ট নীতি ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
পাঠকগণ যদি ক্যাম্পাসে কোনো প্রাণী নির্যাতনের শঙ্কা পান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ক্যাম্পাসে প্রাণী কল্যাণের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করুন।



