পাকিস্তানের প্রাক্তন ওপেনার মোহাম্মদ ইলিয়াস ১২ জানুয়ারি লাহোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ৭৯ বছর। তার প্রস্থান দেশের ক্রিকেট জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ইলিয়াসের দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানকে স্মরণ করেছে।
ইলিয়াস ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের হয়ে মোট দশটি টেস্ট ম্যাচের অংশগ্রহণকারী ছিলেন। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ছয়টি টেস্ট উল্লেখযোগ্য, যেখানে ১৯৬৫ সালে করাচিতে একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি অর্জন করেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ারও সমৃদ্ধ ছিল। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে তিনি ৮২টি ম্যাচে ৪৬০৭ রান সংগ্রহ করেন, গড় ৩৫.৭১। এই পরিসংখ্যান তাকে দেশের অন্যতম ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানের মর্যাদা এনে দেয়।
১৯৭৫ সালে তিনি শেষ স্বীকৃত প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অংশ নেন, যা তার দীর্ঘায়িত গৃহময় ক্যারিয়ারের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।
কিশোর বয়সে বক্সিং তার প্রিয় খেলা ছিল, তবে লাহোরের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফাস্ট বোলার হিসেবে শুরু করে ধীরে ধীরে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের পথে অগ্রসর হন। তার শক্তিশালী হুক শট ছিল প্রধান অস্ত্র, এবং মাত্র পনেরো বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডেবিউ করেন।
১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় একমাত্র টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ডেবিউ ঘটে। ঐ ম্যাচে কিংবদন্তি ইয়ান চ্যাপেলও ডেবিউ করায় তা ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়।
ইলিয়াসের টেস্ট ক্যারিয়ার ১৯৬৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ হয়, যেখানে শেষ সিরিজের পর তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে সরে যান।
১৯৭২-৭৩ সালের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে বোর্ড প্রধান এএইচ কারদারের সঙ্গে মতবিরোধের ফলে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, এবং এরপর থেকে তিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেননি।
খেলা ত্যাগের পরেও ইলিয়াস ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়েতে ক্রিকেট খেলতে থাকেন, যা তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিদেশি মাটিতে ছড়িয়ে দেয়।
বছরের পর বছর তিনি পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেলে অংশ নেন, বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলের গঠন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ সালে তিনি জুনিয়র নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তরুণ প্রতিভা চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
মোহাম্মদ ইলিয়াসের মৃত্যু পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে। তার ব্যাটিং শৈলী, হুক শটের দক্ষতা এবং পরবর্তী প্রজন্মের বিকাশে অবদান আজও স্মরণীয়।



