ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) তেজগাঁও অফিসে সোমবার মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জের জন্য অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানে রোড ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী, ডিটিসিএর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক এবং পূর্বের নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ঘরে বসেই রিচার্জের সুবিধা পেতে পারেন।
অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যায় এবং বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্যই উপলব্ধ। আইফোনের জন্য সমতুল্য অ্যাপ শীঘ্রই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো স্টোরে দেখা যায় না। ডিটিসিএ জানায়, ১ জানুয়ারি থেকে গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি সক্রিয় ছিল এবং আজকের অনুষ্ঠানে তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হল।
ডিটিসিএ ২৫ নভেম্বর থেকে তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন রিচার্জ সেবা চালু করেছিল। সেই সেবার সঙ্গে এখন মোবাইল অ্যাপ যুক্ত হওয়ায় ব্যবহারকারীরা কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল না করেও, কেবল স্মার্টফোনের মাধ্যমে রিচার্জ করতে পারবেন। এই সংযোজনের ফলে রিচার্জ প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নিরাপদ হয়েছে।
অ্যাপের প্রধান সুবিধা হল রিচার্জের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর কার্ডের ব্যালেন্স ও লেনদেনের ইতিহাস দেখা সম্ভব হওয়া। এছাড়া রিচার্জের সময় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে সরাসরি টাকা জমা করা যায়। ভিসা, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধাও অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে।
অ্যাপ ব্যবহার শুরু করতে প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে “র্যাপিড পাস মোবাইল অ্যাপ” ডাউনলোড করে লগইন করতে হবে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সাইন‑আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরে সাইন‑ইন করা যায়। ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা একই লগইন তথ্য ব্যবহার করে অ্যাপে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে লগইনের সময় নিবন্ধনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরই ব্যবহার করতে হবে।
রিচার্জের পরিমাণের সীমা নির্ধারিত আছে; একবারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা সম্ভব। ব্যবহারকারী রিচার্জের পর কার্ডটি মেট্রোরেল স্টেশনের অ্যাড‑ভ্যালু মেশিনে স্পর্শ করলে রিচার্জ সম্পন্ন হয়। স্পর্শের আগে রিচার্জের অবস্থা “পেন্ডিং” দেখাবে এবং স্পর্শের পরই তা সক্রিয় হবে।
রিচার্জ সফল হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ পাঠানো হয়। এই বার্তায় রিচার্জের পরিমাণ ও সময় উল্লেখ থাকে, যা ব্যবহারকারীকে রেকর্ড রাখার সুবিধা দেয়।
ডিটিসিএ উল্লেখ করেছে যে, যদি র্যাপিড বা এমআরটি কার্ড ব্ল্যাকলিস্টে থাকে, রিফান্ডেড হয় অথবা কোনো অবৈধ অবস্থায় থাকে, তবে রিচার্জ করা যাবে না। এমন ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অন্য পদ্ধতিতে রিচার্জ করতে হবে অথবা সমস্যার সমাধানের জন্য ডিটিসিএয়ের হেল্পলাইন ব্যবহার করতে হবে।
স্টেশনে কার্ড স্পর্শ না করলে রিচার্জের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ফেরত যায়। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে অনিচ্ছাকৃত রিচার্জের ফলে কোনো অর্থের ক্ষতি না হয়।
অ্যাপের ভবিষ্যৎ আপডেটে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও সমর্থন যুক্ত করা হবে, যা সকল স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে সমান সুবিধা দেবে। ডিটিসিএ এই উদ্যোগকে মেট্রোরেল সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
মেট্রোরেল রাইলে রিচার্জের এই নতুন পদ্ধতি সময় ও শ্রমের সাশ্রয় ঘটাবে, বিশেষ করে কর্মজীবী ও ছাত্রদের জন্য যাঁরা দৈনন্দিন যাতায়াতে এই সেবা ব্যবহার করেন। ঘরে বসেই রিচার্জের সুবিধা, বিভিন্ন পেমেন্ট চ্যানেল এবং ত্বরিত নিশ্চিতকরণ ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিটিসিএয়ের মতে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিচার্জের প্রসার মেট্রোরেলের ব্যবহার বাড়াবে এবং নগদ লেনদেনের প্রয়োজন কমিয়ে পরিবেশগত দায়িত্বেও অবদান রাখবে। এভাবে প্রযুক্তি ও গণপরিবহনের সমন্বয় শহরের চলাচলকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে।



