শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে ইসরোর PSLV-C62 রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি ২৬০ টন ওজনের এবং সফলভাবে আকাশে উঠতে সক্ষম হয়। তবে তৃতীয় ধাপে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মিশনটি ব্যর্থ হয়।
উৎক্ষেপণের সময় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং রকেটের উচ্চতা ও গতি প্রত্যাশিত সীমার মধ্যে থাকে। এই পর্যায়ে কোনো অস্বাভাবিকতা রেকর্ড করা যায়নি। তৃতীয় ধাপে ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি দেখা দেয়, ফলে রকেটের গতি হঠাৎ কমে যায় এবং কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
এই ব্যর্থতার ফলে মোট ১৫টি উপগ্রহ মহাকাশে পৌঁছাতে পারেনি। সেসব উপগ্রহের মধ্যে ভারতীয় ও বিদেশী উভয় ধরনের পেলোড অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষ করে আটটি বিদেশি পেলোড এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ ও পর্যবেক্ষণ প্রকল্পের জন্য পরিকল্পিত ছিল।
ইসরোর মতে, ত্রুটির মূল কারণ যান্ত্রিক ব্যর্থতা, যা রকেটের তৃতীয় ধাপের ইঞ্জিনে ঘটেছে। বর্তমানে বিশ্লেষণ দল এই সমস্যার সঠিক প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য ডেটা বিশ্লেষণ ও রকেটের অবশিষ্ট অংশের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
PSLV (পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল) ইসরোর অন্যতম নির্ভরযোগ্য লঞ্চ সিস্টেম হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ পর্যন্ত মোট ৬৪টি মিশনে এই রকেট ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র চারটি ব্যর্থতা রেকর্ড হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে PSLV-কে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদান করা হয়।
তবে ২০২৫ সালে PSLV-C61 মিশনে একই রকম ব্যর্থতা ঘটেছিল, যা ইসরোর জন্য একটি সতর্কতা সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময়েও তৃতীয় ধাপে ত্রুটি দেখা দেয় এবং কয়েকটি স্যাটেলাইট হারিয়ে যায়। এই পূর্বের ঘটনা বর্তমান ব্যর্থতার বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
PSLV রকেটের ইতিহাসে বহু সফল মিশন রয়েছে, যার মধ্যে ছোট ও বড় উপগ্রহের উৎক্ষেপণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত। রকেটের নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া ক্রমাগত উন্নত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ত্রুটি কমে।
এই ব্যর্থতা ইসরোর জন্য কেবল একটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখার দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংস্থা দ্রুত সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করে সংশোধনী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চলাকালীন ইসরোর ইঞ্জিনিয়ারিং দল রকেটের তৃতীয় ধাপের উপাদান, জ্বালানি সিস্টেম এবং নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যারের পুনরায় পরীক্ষা করছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ত্রুটি সম্ভবত একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে ঘটেছে, যা একক ব্যর্থতার চেয়ে জটিল।
ভবিষ্যতে পরিকল্পিত মিশনগুলোর জন্য নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে অতিরিক্ত পরীক্ষা ও সিমুলেশন চালু করা হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে রকেটের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর ইসরোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ব্যর্থতার কারণ সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের ত্রুটি না ঘটাতে রকেটের ডিজাইন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
পাঠক হিসেবে আমরা এই প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ইসরোর প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং প্রশ্ন করা যায়: কীভাবে এই ধরনের ব্যর্থতা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা যাবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ সহযোগিতায় বিশ্বাস বজায় রাখা যাবে?



