ঢাকার উচ্চ আদালত আজ একটি আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করেছে, যার মাধ্যমে ধর্ষকের সঙ্গে তার শিকারীর বিবাহ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও এএফএম সাইফুল করিমের বেঞ্চে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদালত উল্লেখ করেছে যে মামলাটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
আবেদনকারী আইনজীবী মো. রাকিবুল হাসান জানান, তিনি পিটিশনে গৃহ সচিবকে প্রথম প্রতিক্রিয়াকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে আইন সচিবের নাম থাকা উচিত ছিল। এই ত্রুটির কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় দাখিলের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
এই আবেদনটি গত বছর ২২ অক্টোবর জনস্বার্থের অধীনে দায়ের করা হয়েছিল। এতে যুক্তি দেওয়া হয় যে, ধর্ষকের সঙ্গে শিকারীর বিবাহকে স্বাভাবিক করে তোলা যৌন হিংসাকে স্বীকৃতি দেয় এবং আইনি কাঠামোকে ক্ষুণ্ণ করে।
পিটিশনে বলা হয়েছে, এ ধরনের বিবাহের মাধ্যমে অপরাধীকে জামিন পাওয়া বা দণ্ড হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়, যা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে।
আবেদনকারী আদালতকে অনুরোধ করেন যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একটি নির্দেশ জারি করা হোক, যাতে তারা ব্যাখ্যা করে কেন এ ধরনের বিবাহ রোধে অক্ষমতা অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত না হয়।
পিটিশনে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কারাগারে ধর্ষকের ও শিকারীর বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা প্রায়শই অপরাধীর মুক্তি বা শাস্তি হ্রাসের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কেরানিগঞ্জ সেন্ট্রাল জেলে আটক অবস্থায়, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগকারীকে বিবাহের মাধ্যমে যুক্ত করেছেন। এই বিবাহটি কারাগার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের অনুমোদনে সম্পন্ন হয়েছে, আর মামলাটি এখনও চলমান।
আবেদনপত্রে গৃহ, আইন, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবদেরকে প্রতিক্রিয়াকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা এই বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বেঞ্চের প্রত্যাখ্যান মূলত প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ওপর ভিত্তি করে, বিষয়টির বিষয়গত বিশ্লেষণ না করে, ফলে আবেদনটি পুনরায় দাখিলের সুযোগ রেখে গেছে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্ষকের সঙ্গে শিকারীর বিবাহের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা প্রায়শই আদালতের বাইরে সমঝোতার



