বিএনপি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের আয়োজিত পলিসি ডায়ালগে রূপান্তরিত রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশ না জানলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা কঠিন হবে।
এই আলোচনার শিরোনাম ছিল “জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা গণতান্ত্রিক শাসনের চ্যালেঞ্জ”, যেখানে স্বপন রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকদের এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জোর দেন, যারা রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন, তাদেরকে এই পরিবর্তিত কাঠামোকে বুঝতে হবে, নইলে কার্যকর শাসন সম্ভব নয়।
স্বপন বলেন, আজকের রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমে বিভিন্ন শক্তিশালী উপাদান অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে দেখা যায়নি। এই উপাদানগুলোকে উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রের নীতি ও কৌশল ব্যর্থতার মুখে পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার ঐতিহ্যবাহী সংজ্ঞা এখন আর প্রযোজ্য নয়; সীমান্ত‑কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ধারণা ভেঙে গেছে।
প্রচলিত নিরাপত্তা ধারণা ছিল ভূমি, জল ও আকাশপথের সীমান্ত রক্ষার ওপর ভিত্তি করে, কিন্তু এখন ঝুঁকি বহু দিক থেকে উদ্ভূত হচ্ছে। স্বপন উল্লেখ করেন, সাইবার হুমকি, তথ্যের অপব্যবহার এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা এখন নিরাপত্তার প্রধান দিক।
ইন্টারনেটের শক্তি, যোগাযোগের বিস্তার এবং ডিজিটাল অভ্যাসের পরিবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব স্তরে প্রভাব ফেলেছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলো এখন এক নতুন ইকোসিস্টেমের অংশ, যেখানে তথ্যের প্রবাহ ও প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করে।
এই পরিবর্তনের ফলে পুলিশ বাহিনীর কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। স্বপন উল্লেখ করেন, পূর্বে পুলিশ প্রধানত চোর‑ডাকাত ধরার ওপর মনোযোগ দিত, কিন্তু এখন অপরাধের বহুমাত্রিক রূপ দেখা দিচ্ছে, যেখানে ডিজিটাল সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি অপরাধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে।
সরকারও একই ধরণের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়াবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে স্বপনের মন্তব্য সরকারী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, স্বপনের এই বক্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে। রূপান্তরিত ইকোসিস্টেমকে স্বীকৃতি না দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা শাসন পরিকল্পনা করা কঠিন হবে। তাই পার্টিগুলোকে ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার আইন এবং আধুনিক পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, স্বপন জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। রূপান্তরিত রাজনৈতিক পরিবেশ, বহুমুখী নিরাপত্তা হুমকি এবং ডিজিটাল অপরাধের উত্থানকে বিবেচনা করে নীতি নির্ধারকদের সমন্বিত কৌশল গড়ে তুলতে হবে, নইলে রাষ্ট্র পরিচালনা জটিল হয়ে উঠবে।



