সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার অনুষ্ঠিত বাঙ্লাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি২০ ম্যাচে সিলেট টাইটানস রাংপুর রাইডার্সকে ছয় উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। টাইটানস প্রথমে ফিল্ড বেছে নিয়ে শুরুর ওভারে রাইডার্সকে মাত্র ১১৪ রান দিয়ে আটকে দেয়, ফলে টাইটানসকে ১১৯ রানে চার উইকেটের সঙ্গে ১৭.৩ ওভারে লক্ষ্য অর্জন করতে হয়।
সিলেটের বোলিং আক্রমণ নাসুম আহমেদের নেতৃত্বে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখায়। নাসুম চার ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ১৯ রান দেন (৩/১৯), যা রাইডার্সের পতনের মূল চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। শোহিদুল ইসলাম প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটের সঙ্গে ৩৬ রান (৩/৩৬) নেন, আর মোইন আলি দুই উইকেটের সঙ্গে মাত্র ৮ রান ছেড়ে দেন (২/৮)। রাইডার্সের দিক থেকে নাহিদ রানা তিন ওভারে ২ উইকেট নিয়ে ১৮ রান দেন (২/১৮)।
বোলিং শেষে সিলেটের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওফিক খান ৫৪ রানের স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। তাওফিক ২২ ball-এ ৩৩ রান করেন, যার মধ্যে চারটি ছয় এবং একটি চার অন্তর্ভুক্ত। ইমন ৪১ ball-এ ৫২* অচল রয়ে তিনটি চার এবং তিনটি ছয় মারেন, যা টিমের লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। তৃতীয় ব্যাটসম্যান আরিফুল ইসলাম ২৬ ball-এ ২১ রান যোগ করেন।
ইমন শেষের শটের মাধ্যমে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করেন। তিনি শেষের ওভারে ইফতিখার আহমেদের ডিফেন্সিভ কভার এলাকায় ছয়টি মারেন, ফলে সিলেট ১১৯/৪ স্কোরে ১৭.৩ ওভারে রাইডার্সকে পরাজিত করে। রাইডার্সের দিক থেকে খুশদিল শাহ সর্বোচ্চ স্কোর করেন, যদিও তার সুনির্দিষ্ট রান সংখ্যা মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
এই জয় সিলেটের নয়টি ম্যাচের মধ্যে পঞ্চম জয়, যার মধ্যে শেষ চারটি ম্যাচে তিনটি জয় অন্তর্ভুক্ত। ফলে টাইটানস এখন প্লে-অফের জন্য দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং দ্বিতীয় স্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে রাইডার্স তৃতীয় পরপর পরাজয়ের পর টেবিলে চতুর্থ স্থানে নেমে আসে, আটটি ম্যাচে আটটি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।
ম্যাচের দিন কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও স্টেডিয়ামে বিশাল ভিড় দেখা যায়। ভিড়ের উপস্থিতি টাইটানসের প্রথম ওভারে রাইডার্সকে ২৭/৩ পর্যন্ত নামিয়ে আনে। শোহিদুলের প্রথম ওভারে তাওহিদ হ্রিদয় (৪) ও লিটন দাস (১২ ball-এ ২২ রান) আউট হন, যার পর নাসুম কাইল মেয়ার্সকে ডাক দিয়ে আউট করেন। এই দ্রুত ভাঙন রাইডার্সের স্কোরকে দ্রুত কমিয়ে দেয়।
সিলেট টাইটানসের এই জয় দলকে প্লে-অফের পথে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, আর রাইডার্সকে তাদের পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিপিএল টি২০ সিজনের বাকি ম্যাচগুলোতে উভয় দলই উচ্চমানের পারফরম্যান্স বজায় রাখলে শিরোপা দৌড়ে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হবে।



