প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানায়। এই পদক্ষেপটি ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। ফটোকার্ডে স্পষ্টভাবে লেখা আছে—‘গণভোটের ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার রাস্তা চিরতরে বন্ধ করুন’।
প্রকাশিত ছবিতে উজ্জ্বল রঙের পটভূমিতে ভোটের বাক্সের চিত্র এবং স্লোগানটি বড় অক্ষরে তুলে ধরা হয়েছে। ভোটারদেরকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক পথকে সুরক্ষিত রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্লোগানটি ভোটের গুরুত্ব এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরোধিতা উভয়ই তুলে ধরে।
প্রেস উইং জানিয়েছে, গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে মোট আটটি ফটোকার্ড ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। প্রথম ফটোকার্ডটি ইতিমধ্যে শেয়ার করা হয়েছে, এবং পরবর্তী সাপ্তাহিকভাবে নতুন ডিজাইন ও বার্তা যুক্ত করে প্রকাশ করা হবে। এই ধারাবাহিকতা ভোটারদের মনোযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি বার্তাকে পুনরাবৃত্তি করে শক্তিশালী করবে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদান করা। সরকার বিশ্বাস করে যে, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এদিকে, সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে। এসব কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন স্তরে তথ্য প্রচার, আলোচনা সভা এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লক্ষ্য হল ভোটের গুরুত্ব, প্রক্রিয়া এবং ফলাফল সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করা।
মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন করা হয়েছে। এই সেশনে ভোটের আইনগত দিক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটার সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তারা ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবে।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে ভোটের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করা হয়, যাতে তারা নিজেদের সম্প্রদায়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়াতে পারে। এই পদ্ধতি তৃণমূল পর্যায়ে ভোটের প্রতি ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে, সরকারী সংস্থার দ্বারা পরিচালিত প্রচারাভিযান ভোটারদের মতামতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতার পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে সরকার এই উদ্বেগকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা স্বচ্ছতা ও সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই করা হচ্ছে।
প্রচারণার ফলাফল কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ধারাবাহিক ফটোকার্ড প্রকাশ ভোটারদের মনোযোগ বাড়াতে এবং ভোটের হার বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে, ভোটারদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে এই ধরনের ভিজ্যুয়াল উপকরণ কার্যকর হতে পারে।
গণভোটের ফলাফল নির্ধারণের জন্য ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনী কমিশনও নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভোটিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
অগ্রসর হওয়া সময়ে, সরকার গণভোটের ফলাফলকে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে রোধ করা এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য।
সামগ্রিকভাবে, প্রেস উইং কর্তৃক প্রকাশিত ফটোকার্ড এবং সরকারী সচেতনতা কর্মসূচি ভোটারদের মধ্যে তথ্যের প্রবাহ বাড়িয়ে গণভোটের সফলতা নিশ্চিত করার দিকে লক্ষ্য রাখে। পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিত বাকি ফটোকার্ডগুলো কীভাবে জনমতকে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে।



