রামন গুইনাপা, জুয়ান পাব্লো গুইনাপার পুত্র, যিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের একজন কারাবন্দি নেতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশের সরকারী প্রতিশ্রুতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৮০০‑এর বেশি রাজনৈতিক বন্দীর মধ্যে মাত্র প্রায় ৪০ জনই এখন পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন। রামন গুইনাপা এই তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পকে ‘মিথ্যে আশ্বাসে ফাঁদে না পড়তে’ আহ্বান জানান।
ট্রাম্প শনিবার ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা “বড় মাত্রায়” প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তার এই মন্তব্যের পরে ভেনেজুয়েলা সরকার বৃহস্পতিবার একটি ঘোষণায় জানায় যে, মানবাধিকার সংস্থা যেসব বন্দীকে রাজনৈতিক বলে চিহ্নিত করেছে, তাদের একটি অংশকে সদিচ্ছা প্রকাশের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপটি আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ৩ জানুয়ারি ক্যারাকাসে একটি রেইডের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচার অভিযোগে দায়ের করে। মাদুরোর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক দমনমূলক নীতি নিয়ে চাপ বাড়ায়।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতা জর্জে রোড্রিগেজ, যিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেজের ভাই, তৎকালীন ঘোষণায় উল্লেখ করেন যে, “গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যক ভেনেজুয়েলা ও বিদেশি বন্দীকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দেওয়া হবে”। এই ঘোষণার পর বেশ কয়েকজন উচ্চপ্রোফাইল বিরোধী নেতা ও বিদেশি নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচজন স্প্যানিশ নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে মানবাধিকার আইনজীবী রোসিও সান মিগুয়েল অন্তর্ভুক্ত। এই মুক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার রেকর্ডের ওপর আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করে।
ট্রাম্পের সামাজিক মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি আশা করি এই বন্দীরা স্মরণ করবে যে তারা কত ভাগ্যবান যে যুক্তরাষ্ট্র intervened এবং যা করা দরকার তা করেছে”। তার এই মন্তব্যের পরেও এখনও অধিকাংশ রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে রয়ে গেছে, যা পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
বন্দী পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, মুক্তির সংখ্যা খুবই সীমিত এবং সরকারী প্রতিশ্রুতি পূরণে ত্রুটি রয়েছে। রামন গুইনাপা, যিনি বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানাতে চাই যে তিনি মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে ফাঁদে না পড়বেন এবং এই সরকারে চাপ বজায় রাখবেন”। তিনি ট্রাম্পের চাপকে ভেনেজুয়েলায় তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রামনের এই মন্তব্যের পেছনে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক দমনমূলক নীতি অব্যাহত রাখার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপর চাপ বজায় রাখলে ভেনেজুয়েলা সরকারকে আরও বেশি বন্দী মুক্তি দিতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে, মুক্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়বে বলে আশা করা যায়।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ভেনেজুয়েলা সরকারের মধ্যে আলোচনার দিক নির্ধারণ করবে কত দ্রুত এবং কতজন রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি পাবে। যদি ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখে, তবে এই ধরনের মুক্তি আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তির সংখ্যা সীমিত থাকায়, রামন গুইনাপা এবং অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য চাপ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনাগুলি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মানবিক অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা পুনরায় জোরদার করে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে এবং কত দ্রুত মুক্তি প্রক্রিয়া অগ্রসর হবে, তা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি ও আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে।



