ড. মঈন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সোমবার ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন (ILO) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত শ্রমিক বিষয়ক আলোচনায় দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভাটি শ্রমিক অধিকার, নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক সংগঠন, একাডেমিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
ড. মঈন খান উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং যথাযথ নীতি সমর্থন না করলে জাতি গঠনের লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে ৫৪ বছর আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ধারাটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকারকে সংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করে বলে তিনি জোর দেন।
ড. মঈন খান নিজেকে শ্রমিকের প্রতিনিধি হিসেবে না গন্যে, তার পেশাগত পরিচয় শিক্ষকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিকের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা তার জন্য স্বাভাবিক, তবে তিনি কোনো শ্রমিক সংগঠনের সরাসরি সদস্য নন।
শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ড. মঈন খান উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং নীতি নির্ধারণে মনোযোগ দিতে হবে।
জনসাধারণ ও শ্রমিক-জনতা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যথাযথ চাপ বজায় রাখতে পারে, তখনই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, এ কথায় তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে শ্রমিকের দাবিগুলোকে উপেক্ষা না করে বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
ড. মঈন খান উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার জন্য জনমত গঠন এবং রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকের সমস্যার সমাধান না হলে সামাজিক অশান্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে।
এই আলোচনার পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে শ্রমিক নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোও ড. মঈন খানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও নীতি বাস্তবায়ন জরুরি। তারা দাবি করে, সরকারকে শ্রমিকের মঙ্গলের জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।
বিএনপি এই ধরনের প্রকাশের মাধ্যমে শ্রমিক ভোটার গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায়, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। ড. মঈন খান উল্লেখ করেন, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ড. মঈন খান শ্রমিকের জাতি গঠনে অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে, সংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য সম্পদ সৃষ্টির এবং পরিকল্পিত নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য শ্রমিক নীতি ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার আলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।



