অস্ট্রেলিয়ার সরকার ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দু’দিনের জন্য সংসদীয় অধিবেশন ডেকেছে, যাতে গত সপ্তাহে বন্ডাই বিচে ঘটিত এলোপাতাড়ি বন্দুক হামলার পর বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও অস্ত্র মালিকানার আইন কঠোর করা যায়। এই পদক্ষেপটি সরকারকে শিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং নিরাপত্তা বিধান দ্রুত কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
১৪ ডিসেম্বর ইহুদি সম্প্রদায়ের হানুক্কাহ উৎসবে বন্ডাই বিচে গুলি চালিয়ে ১৫ জন নিহত হয়। তিন দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী গুলিবিদ্ধ হিসেবে এই ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। গুলিবিদ্ধের বেশিরভাগই ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্য, এবং ঘটনাস্থলে বিশাল শোকের পরিবেশ দেখা যায়।
হামলার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বন্ডাই বিচের সন্ত্রাসীদের হাতে ছিল অস্ত্র এবং তাদের মনের মধ্যে ছিল ঘৃণা; এই আইন দুটোই মোকাবিলা করবে।” এভাবে সরকার বিদ্বেষমূলক অপরাধের শাস্তি বাড়ানো এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
প্রস্তাবিত বিধানে বিদ্বেষ উসকানিদাতাদের জন্য নতুন শাস্তি যোগ করা হবে এবং বিদ্বেষমূলক অপরাধের সাজা আরও কঠোর করা হবে। এছাড়া নিষিদ্ধ প্রতীকের তালিকা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্বেষী গোষ্ঠীর তালিকা তৈরির কাঠামো নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভিসা নীতি সম্পর্কেও পরিবর্তন আনা হবে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে এমন ক্ষমতা থাকবে যে, যারা ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশে আসতে চায়, তাদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে। এই ধারা বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সরকার দাবি করে।
বন্ডাই বিচের গুলিবিদ্ধের তদন্তের জন্য সরকার একটি ফেডারেল রয়্যাল কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশন গোপন গোয়েন্দা ব্যর্থতা, ইহুদি বিরোধের বিস্তার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে। কমিশনের কাজের পরিধি সর্বোচ্চ স্তরের সরকারি তদন্তের অন্তর্ভুক্ত।
হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম এবং তার ২৪ বছর বয়সী পুত্র নবীদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাজিদ ১৯৯৮ সালে ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করেন এবং বন্ডাই বিচের হানুক্কাহ উৎসবে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধের সময়ই তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
নবীদ, যিনি অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং ১৫টি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তার দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
সংসদে গৃহীত জরুরি অধিবেশনটি গ্রীষ্মকালীন বিরতির পরে ৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে শিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং আইন সংস্কারের জরুরিতা বিবেচনা করে সরকার এই তারিখগুলো অগ্রিম নির্ধারণ করেছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠন নতুন আইনকে অতিরিক্ত কঠোর এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করে, বিদ্বেষমূলক অপরাধের শাস্তি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলে, বিদ্বেষমূলক অপরাধের শাস্তি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ভিসা নীতির পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা স্পষ্ট হবে। সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মতবিরোধের ফলে আইন প্রণয়নের গতি এবং বিষয়বস্তুতে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
অবশেষে, বন্ডাই বিচের গুলিবিদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার জন্য কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তা কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



