হোম অ্যাডভাইজার লে. জেনারেল (অবসর) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ শফিপুর, গাজীপুরে অনুষ্ঠিত ৪১তম বিএসএস (আনসার) ক্যাডার অফিসার, উপজেলা আনসার‑ভিডিপি প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী এবং ২৬ ও ২৭ তম ব্যাটালিয়ন প্রশিক্ষণার্থীদের সমাপ্তি সমারোহে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৫.৫ লক্ষের বেশি আনসার‑ভিডিপি সদস্যকে দায়িত্ব অর্পণ করার কথা জানালেন।
সমারোহে তিনি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানিয়ে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাডভাইজার উল্লেখ করেন, মোট ৫৫৫,৯৫৮ আনসার‑ভিডিপি কর্মীকে দেশের ৪২,৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে, যেখানে প্রত্যেক কেন্দ্রে ১৩জন সদস্য থাকবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের গঠন হবে তিনজন সশস্ত্র সদস্য, ছয়জন নিরস্ত্র পুরুষ সদস্য এবং চারজন নিরস্ত্র মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে, যা নিরাপত্তা ও সেবা দুটোই নিশ্চিত করবে।
তাছাড়া, তিনজন সশস্ত্র সদস্যের মধ্যে একজন নির্বাচনের পুরো সময়কালে ভোটকেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে রাউন্ড‑দ্য‑ক্লক ডিউটি পালন করবেন, যাতে কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা কমে।
অ্যাডভাইজার আরও জানালেন, দেশের সর্বত্র ১,১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম গঠন করা হবে; প্রতিটি টিমে দশজন সদস্য থাকবে, ফলে মোট ১১,৯১০ জনের একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল গড়ে উঠবে, যা নির্বাচন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কাঠামোগত ও কার্যকর করবে।
সদস্যদের অনৈতিক, পক্ষপাতদুষ্ট বা দায়িত্ব লঙ্ঘনকারী কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
আনসার‑ভিডিপি আগস্ট ২০২৫ থেকে পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি চালিয়ে আসছে; নতুন প্রশিক্ষণ নীতির অধীনে প্রায় ৫৬,০০০ উপজেলা/থানা কোম্পানি আনসার সদস্য, ২,৫৫০,০০০ ভিডিপি ও টিডিপি সদস্য এবং ৩,০০০ের বেশি ব্যাটালিয়ন সদস্য মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
এছাড়া, ৪.৫ লক্ষের বেশি সদস্যকে ইলেকশন ডিউটির জন্য STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা দায়িত্বের স্বচ্ছতা ও তদারকি সহজ করবে।
অ্যাডভাইজার শেষ কথা হিসেবে দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ শত্রু বলে উল্লেখ করে, সকল স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্বাচনকে সফল করতে সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



