20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারবিমুখতা নিয়ে টিআইবির সমালোচনা

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারবিমুখতা নিয়ে টিআইবির সমালোচনা

ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা শুরু থেকেই বিরোধী গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বলেন, এই আত্মসমর্পণ ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়ে গেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার সংস্কার‑বিরোধী মহলকে চিহ্নিত করে প্রতিরোধের কৌশল গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবর্তে, তিনি উল্লেখ করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও পেছনের শক্তির ভারসাম্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে, অস্থায়ী ও অপ্রমাণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।

এর ফলে, কিছু ক্ষেত্রে কম গুরুত্বপূর্ণ বা সম্পূর্ণভাবে সংস্কার‑বিরোধী আইন ও নীতি গৃহীত হয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, সব সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে সংগৃহীত দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের ওপর সরকার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখায়নি, শুধুমাত্র কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে।

প্রথম পর্যায়ে গঠিত ছয়টি কমিশনের পাশাপাশি গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, নারীবিষয়ক, শ্রম ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সুপারিশের বাস্তবায়নের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রের শ্বেতপত্রে প্রকাশিত সুপারিশের পরেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, সংস্কারের জন্য নির্দিষ্ট খাত বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও কোনো স্পষ্ট কৌশল অনুসরণ করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ১১টি কমিশন ও কমিটির বাইরে শিক্ষা, কৃষি ও বেসরকারি ব্যবসা মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো বাদ পড়েছে, এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে, ড. ইফতেখারুজ্জামান টিআইবির দৃষ্টিতে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার‑বিরোধী শক্তির প্রভাবের সামনে নীরব হয়ে গেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তিনি জোর দেন, সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকা থেকে বের হয়ে বাস্তবিক সংস্কার চালাতে হবে।

সামনের দিকে তাকালে, টিআইবি এই বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, যদি সরকার সংস্কার‑বিরোধী গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ চালু রাখে, তবে দেশের উন্নয়ন সূচকগুলো হ্রাস পাবে।

সাক্ষাৎকারে উপস্থিত অন্যান্য টিআইবি কর্মকর্তারা ড. ইফতেখারুজ্জামানের মন্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন, তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য দেননি। তাদের উপস্থিতি এই বিষয়টি নির্দেশ করে যে টিআইবির অভ্যন্তরে এই সমস্যার সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সরকারী সূত্রগুলো সাধারণত সংস্কার‑বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা টিআইবির বিশ্লেষণের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি সরকার সংস্কার‑বিরোধী শক্তির প্রভাব কমাতে না পারে, তবে পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে, সংস্কার‑বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা না হলে, সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকা থেকে সরে এসে কার্যকর নীতি গঠন করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, টিআইবি ড. ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্যে উল্লেখিত সমস্যাগুলো দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংস্কার‑বিরোধী গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে হবে, নতুবা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।

এই আলোচনার পর, টিআইবি পরবর্তী সপ্তাহে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার‑বিরোধী নীতিগুলোর বিশ্লেষণ এবং সুপারিশের বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের রূপরেখা থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments