কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব আচরণ গবেষণার কেন্দ্রের এআই নামের শিম্পাঞ্জি ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৪৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক বয়সজনিত অঙ্গ ব্যর্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করে। তার শেষ মুহূর্তগুলোতে গবেষক ও কর্মীরা পাশে ছিলেন, যা তার জীবনের শেষ দিনগুলোকে শান্তিপূর্ণ করে তুলেছিল।
এআই পশ্চিম আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করে এবং ১৯৭৭ সালে জাপানের এই গবেষণা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়। তখন থেকে তিনি কেন্দ্রের প্রধান গবেষণা বিষয়বস্তু হয়ে ওঠেন এবং এআই প্রকল্পের নামকরণে তার নাম ব্যবহার করা হয়। এই প্রকল্পটি শিম্পাঞ্জির মানসিক ক্ষমতা অন্বেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
কেন্দ্রের গবেষকরা এআইকে সংখ্যা ব্যবহার এবং রঙ পার্থক্য করার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে দেখেছেন। তার পরীক্ষার ফলাফলগুলো শিম্পাঞ্জির জ্ঞানীয় ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে, তিনি সংখ্যার ধারাবাহিকতা ও রঙের সনাক্তকরণে ধারাবাহিকভাবে সঠিক উত্তর দিয়েছেন।
এআইকে মাত্র এক বছর ও আট মাস বয়সে একটি বিশেষ কীবোর্ড ও কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করে স্মৃতি ও শিক্ষার পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই সেটআপের মাধ্যমে তার শিখন প্রক্রিয়া এবং তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। গবেষকরা এই ডেটা ব্যবহার করে শিম্পাঞ্জির জ্ঞানীয় বিকাশের ধাপগুলো বিশ্লেষণ করেন।
পাঁচ বছর বয়সে এআই এক থেকে ছয় পর্যন্ত সংখ্যার নামকরণে দক্ষতা অর্জন করেন এবং ১৯৮৫ সালের একটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ৩০০টি নমুনার সংখ্যা, রঙ ও বস্তু সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারতেন। এই অর্জনটি শিম্পাঞ্জির জ্ঞানীয় ক্ষমতার উচ্চ স্তরকে প্রমাণ করে।
কগনিটিভ পরীক্ষার বাইরে এআই চিত্রাঙ্কন ও রঙ করার প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি কাগজে মার্কার দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আঁকতে পছন্দ করতেন, তাতে খাবারের পুরস্কার প্রয়োজন হতো না। তার এই সৃজনশীল প্রকাশ তার মানসিক স্বাস্থ্যের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
একবার এআই এবং অন্য একটি প্রাইমেট কেজের চাবি ব্যবহার করে নিজের খাঁচা খুলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা গবেষণার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরে। তবে দ্রুতই তারা দুজনকে পুনরায় কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়।
২০০০ সালে এআইয়ের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, যার নাম আয়ুমু। আয়ুমুও তার স্মৃতি ক্ষমতার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এআই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। পিতামাতার জ্ঞানীয় বৈশিষ্ট্যগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে গবেষকরা অতিরিক্ত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০১৭ সালে এআই প্রকল্পের ৪০তম বার্ষিকী উদযাপনের সময় এআইয়ের একটি চিত্র থেকে তৈরি স্কার্ফ জেন গুডলকে উপহার দেওয়া হয়। এই উপহারটি শিম্পাঞ্জি এবং মানব বিজ্ঞানীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
এআইয়ের দীর্ঘায়ু ও বৈচিত্র্যময় গবেষণা ফলাফল শিম্পাঞ্জি গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তার জীবন ও কাজ ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য মূল্যবান তথ্যের উৎস হয়ে থাকবে। শিম্পাঞ্জি ও অন্যান্য প্রাইমেটের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে আরও সমর্থন ও গবেষণা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আপনার মতামত কী?



