বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁ শহরের কালিবাড়ি এলাকায় তার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দেশের আইন‑শৃঙ্খলা, চুরি হওয়া অস্ত্রের পুনরুদ্ধার, ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তিস্তা নদীর পানির ভাগ সংক্রান্ত তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্নের জবাবে বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের নীতিমালা সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
ফখরুলের মতে, সরকার চুরি হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্যর্থতা দেখিয়েছে এবং এ পর্যন্ত আইন‑শৃঙ্খলা ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেনি। তিনি এই পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকে সমালোচনা করেন।
অস্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়াকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুরি হওয়া অস্ত্রের সঠিক রিকভারি না হলে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
ক্রিকেট বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের ওপর ফখরুল তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন; তিনি অতীতে ক্রিকেট খেলতেন, তবে এখন রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেছেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ক্রীড়া একে অপরের সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করেছেন।
ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থার একটি বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে অপমানজনকভাবে আচরণ করার ঘটনাকে তিনি উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের গৌরবকে আঘাত করে এবং বিশ্বকাপ না অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে সমর্থনযোগ্য করে তুলেছে। তিনি বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
ফখরুল ছোটখাটো বিরোধের সমাধানকে সংলাপের মাধ্যমে করা উচিত বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়া সংক্রান্ত বা অন্যান্য বিষয়ক বিরোধে সরাসরি আলোচনা করা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।
ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বললেন, বাংলাদেশ তার দাবিগুলোকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে, তবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে কূটনৈতিক পদ্ধতি গ্রহণ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি উভয় দেশ শালীনতা ও সমঝোতার মাধ্যমে আচরণ করে তবে বিদ্যমান অবিশ্বাস কমে যাবে।
ফখরুলের মতে, ভারতের প্রতি অবৈধ মনোভাব হ্রাস পাবে যদি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক মসৃণভাবে পরিচালিত হয়। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় দেশের নেতৃত্বকে সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিস্তা নদীর পানির ভাগ নিয়ে তিনি জানান, বিএনপি এই বিষয়টি সমাধানের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। তিস্তা, পদ্মা ও অন্যান্য ভাগ করা নদীর ন্যায্য পানির ভাগ নিশ্চিত করতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
ফখরুল উল্লেখ করেন, পানির ভাগের সমস্যার সমাধান না হলে কৃষি, শিল্প ও মানবিক চাহিদা প্রভাবিত হবে, তাই দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা দরকার। তিনি বলেন, এই আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
প্রফেসর আলি রিয়াজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, যারা বিদেশে বসে ফ্যাসিজমের ভয় প্রকাশ করে কিন্তু নিজের দেশে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ, তাদের কথাকে তিনি তুচ্ছ বলে গণ্য করেন। তিনি যুক্তি দেন, ফ্যাসিজম দূর করার জন্য বাস্তবিক পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা প্রয়োজন, কেবল শব্দে নয়।
শেষে ফখরুলের মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আইন‑শৃঙ্খলা, অস্ত্র পুনরুদ্ধার, ক্রীড়া নীতি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলোতে তিনি যে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তা আগামী নির্বাচনী চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



