নতুন মার্কিন দূত সার্জিও গোর দিল্লি সফরের সময় জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গোরের মতে, পরবর্তী আলোচনার সেশন মঙ্গলবার নির্ধারিত হয়েছে, তবে এতে কোন পক্ষগুলো অংশ নেবে তা প্রকাশ করা হয়নি।
দূত এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বন্ধুত্বের সত্যতা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা মতবিরোধে লিপ্ত হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করে নেয়।
গোরের মন্তব্যের আগে কিছু মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে ভারতকে চুক্তি স্বাক্ষরের দেরির জন্য দায়ী করা হয়েছিল, যা দিল্লি সরকার অস্বীকার করেছে। বাণিজ্য আলোচনায় উত্তেজনা বাড়ার মূল কারণ হল আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার। এই শুল্কের পেছনে ভারতের রাশিয়ান তেল ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত শাস্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভারতীয় কৃষি খাতে অধিক প্রবেশাধিকার পাওয়া দরকার, তবে দিল্লি এই দাবিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গোর নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে শপথ গ্রহণের পর থেকে এখনও ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে তার শংসাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেননি। তবে সোমবার তাকে দিল্লিতে দূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
স্বাগত অনুষ্ঠানে ছোট একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিতদের তালি ও উল্লাসের সঙ্গে গোরকে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে গোরের পছন্দের আমেরিকান গানের তালিকা বাজানো হয়; লায়নেল রিচির “হ্যালো, ইটস মি”, ভিলেজ পিপলসের “ইয়ামসিএ” এবং জনি ক্যাশের “রিং অব ফায়ার” ইত্যাদি গানের মাধ্যমে পরিবেশকে প্রাণবন্ত করা হয়।
মিডিয়ার সামনে গোর বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের সহযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই গভীরতর হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়েছে; বাণিজ্য বিষয়ক মতবিরোধ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাতের সমাধানে ভারতের অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য উভয় নেতার মধ্যে তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। তবুও দুই নেতা নিয়মিত ফোনে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র র… গোরের মন্তব্য ও বাণিজ্য আলোচনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।



