ইরানের তেহরান দূতাবাসের সামনে লন্ডনের কেনসিংটনে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) একটি প্রতিবাদে ইরানীয় পতাকা সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে তেহরান ইরান যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় লন্ডনের ইরানি সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য বিক্ষোভের সমর্থনে দূতাবাসের সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের দেয়াল বেয়ে উঠে ইরানের জাতীয় পতাকা তুলে নেন এবং তা সরিয়ে ফেলেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা ইরনা জানায়, তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এই কাজের জন্য তীব্র নিন্দা পেয়েছেন। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের পতাকা অপসারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের প্রতি অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ বিষয়ক মহাপরিচালক আলী রেজা ইউসেফি এই ঘটনার ওপর যুক্তরাজ্যের কূটনীতিকের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি কূটনৈতিক সম্পত্তির প্রতি সম্মান না দেখানো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ইতোমধ্যে তেহরানে চলমান অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের ওপর ইরানি সরকারের সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, জনগণকে সহিংসতা বা প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে অনুমতি দেওয়া উচিত।
কুপার তার পোস্টে ইরানকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো সরকারই তার নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করতে পারে না।
তেহরানে গত দুই সপ্তাহে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। উচ্চ মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ কঠিন পরিস্থিতিতে আটকে আছে, যা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
ইরানের সরকার এই বিক্ষোভকে অস্থিতিশীলতা ও বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলাফল বলে দাবি করে, আর যুক্তরাজ্য এই বিষয়কে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। তদুপরি, যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা এখনো অনির্ধারিত।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ঘটনা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে। উভয় পক্ষেরই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত সমাধান বের করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে না।



