রাজনৈতিক প্রার্থীরা নির্বাচনী জনসভার স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে কমপক্ষে এক দিন আগে জানাতে বাধ্য। এই শর্তটি নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত।
বিধি অনুসারে, কোনো প্রার্থী তার সমর্থনকারী দলকে জনসভার আগে তথ্য প্রদান না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই প্রার্থীদের পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় এই সময়সীমা মেনে চলা জরুরি।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে জনসভার ঠিকানা, শুরু সময় এবং শেষ সময়সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিবরণ। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবা সমন্বয় করে।
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, তথ্য অধিদপ্তর এই নিয়মের ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন, পোস্টার এবং রেডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রার্থীদের সচেতন করা হচ্ছে।
প্রচারাভিযানের মূল বার্তা হল, জনসভার আগে ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা মেনে না চললে জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। অধিদপ্তর এই বিষয়টি নির্বাচনের ন্যায্যতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে জোর দিচ্ছে।
অধিদপ্তরের আরেকটি বিজ্ঞাপন জানায়, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করে একক জনসভা পরিচালনা করতে পারবে না। এই সীমাবদ্ধতা প্রার্থী বা তার সমর্থকদের জন্য প্রযোজ্য, যাতে শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ করা যায়।
তবে সাধারণ প্রচারণা—যেমন ঘরোয়া দরজা-দরজা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ—এ ক্ষেত্রে মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকারের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়। এই ব্যতিক্রমটি ছোট আকারের যোগাযোগকে সহজতর করতে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নতুন শর্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, কিছু ছোট দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে সময়সীমা মেনে চলা তাদের সংগঠনের সক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
প্রার্থীদের জন্য এখনো সময়সীমা মেনে চলা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা মানা চ্যালেঞ্জ হতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে যোগাযোগের সুবিধা কম। তাই তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
পুলিশের দৃষ্টিকোণ থেকে, আগাম তথ্য পাওয়া নিরাপত্তা কর্মীকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করে। এতে ট্র্যাফিক রুট নির্ধারণ, জরুরি মেডিকেল টিমের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য অশান্তি দমন করা সহজ হয়।
এই নিয়মের প্রয়োগ নির্বাচনী পরিবেশকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে পারে, তবে একই সঙ্গে প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন কৌশলেও পরিবর্তন আনবে। বড় আকারের র্যালি এখনো পরিকল্পনা করে চালাতে হবে, তবে শব্দের ব্যবহার ও সময়সূচি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচনী কমিশন আগামী সপ্তাহে এই বিধির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করবে। প্রার্থীরা এই সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করতে তাদের ক্যাম্পেইন টিমকে পুনর্গঠন করতে পারে, আর ভোটাররা নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে অংশগ্রহণের আশা করতে পারে।



