নোয়াখালি জেলার নয়টি উপজেলা বোরো ধান চাষে তীব্রভাবে যুক্ত, মোট লক্ষ্য ৪,৯৪,৭৫৫ মেট্রিক টন উৎপাদন, যা ১,৪০,০৯৫ হেক্টর জমিতে করা হবে।
১ জানুয়ারি থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত ৬০,৯৬০ হেক্টর জমি চাষে প্রস্তুত হয়েছে; কর্মকর্তারা আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্য অতিক্রমের সম্ভাবনা দেখছেন।
কৃষি সম্প্রসারণের পেছনে গত বছরের বাজারে দামের উত্থান ও চাহিদার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যদিও সার, জ্বালানি ও শ্রমের খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
ডিপি ডি এ ই নোয়াখালি শাখার সহকারী পরিচালক আশীষ কুমার কর উল্লেখ করেছেন, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকলে উৎপাদন লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
চাটখিল, সোনাইমুরি, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, কম্পানিগঞ্জ, কবিরহাট, সদর, সুভর্ণচর ও হাটিয়া উপজেলায় মোট ৮৭,৮৪০ হেক্টর হাইব্রিড জাত এবং ১৬,২৫৫ হেক্টর হাই-ইয়েল্ডিং ভ্যারাইটি (HYV/উফসি) চাষ করা হচ্ছে।
কবিরহাট, সদর, সুভর্ণচর ও হাটিয়া উপজেলায় কৃষকরা শীতের তীব্র ঠাণ্ডা সত্ত্বেও ভোরবেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি প্রস্তুতি, সার প্রয়োগ ও চারা রোপণে ব্যস্ত।
গত বছর বাজারে দামের উত্থান দেখার পর, অনেক কৃষক ক্ষেত্র বাড়িয়ে দিচ্ছেন; উদাহরণস্বরূপ, সোনাইমুরির শৌখলায় এক কৃষক ৯০ দশমিক জমি থেকে ১০০ দশমিক পর্যন্ত বাড়িয়ে গেছেন।
তিনি গত বছর ৯০ দশমিক জমিতে ৬০ মৌন্ড ধান উৎপাদন করে ভালো দামে বিক্রি করেন, ফলে এই বছরও একই বা বেশি পরিমাণ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন।
আরেকজন ৬০ বছর বয়সী কৃষক, যিনি আমিশাপাড়া ইউনিয়নে বাস করেন, গত বছর ৭০ দশমিক জমিতে ৪০ মৌন্ড ধান ১,২০০ টাকা প্রতি মৌন্ডে বিক্রি করেন; এই বছর ১০০ দশমিক জমিতে চাষ করছেন, তবে সার ও শ্রমের দাম বাড়ার কারণে ব্যয় পূরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এখন সাত ঘণ্টার কাজের জন্য ৮০০ টাকা, যার মধ্যে খাবার ও নাস্তা অন্তর্ভুক্ত, যা কৃষকদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চাটখিল পৌরসভার সুনদারপুরে তিন একর জমি চাষকারী ৫০ বছর বয়সী কৃষক শ্রমিকের ঘাটতি ও জ্বালানি, সার ইত্যাদির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার অভিযোগ করেছেন।
ইনপুট খরচের এই বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, উচ্চ দামের প্রত্যাশা ও সরকারী সহায়তা কৃষকদের চাষ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।
বোরো ধানের উৎপাদন বাড়লে দেশের চালের সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে শীতকালীন মৌসুমে মজুদ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা ও ইনপুটের মূল্য অস্থিরতা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে; কৃষি বিভাগ এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে নীতি সমন্বয় করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
সংক্ষেপে, নোয়াখালি জেলার বোরো ধান চাষের পরিসর ও উৎপাদন লক্ষ্য উঁচু, তবে ইনপুট খরচ ও শ্রমের ঘাটতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে; বাজারের দামের দিক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও আবহাওয়া ও খরচের অস্থিরতা ভবিষ্যৎ ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



