বিনোদন জগতে পরিচিত গায়ক মিকা সিং সম্প্রতি প্রাণী কল্যাণে তার নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি মুম্বাই শহরের প্রান্তে অবস্থিত দশ একর জমি দান করে অব্যবহৃত কুকুরদের জন্য একটি সমন্বিত শরণস্থল গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
মিকা সিং জানান, তিনি সবসময় প্রাণীর প্রতি বিশেষ স্নেহ অনুভব করে আসছেন এবং অমীমাংসিত কুকুরদের জন্য কিছু করতে চান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি কেবল শব্দে নয়, বাস্তব সম্পদে তার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করছেন।
প্রস্তাবিত শরণস্থলটি কুকুরদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসনের সুযোগ দেবে। জমিটি ভবিষ্যতে প্রশস্ত কেজ, খেলাধুলার এলাকা, কোয়ারান্টাইন সেকশন এবং চিকিৎসা ইউনিটসহ সম্পূর্ণ সজ্জিত হবে।
প্রকল্পটি স্থানীয় পশু চিকিৎসক, প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে বলে জানা যায়। এভাবে কুকুরদের জন্য পেশাদারী সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
মিকা সিং এই উদ্যোগের মাধ্যমে কুকুরদের জন্য একটি স্থায়ী নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শরণস্থলটি শুধুমাত্র অস্থায়ী আশ্রয় নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রদান করবে।
প্রস্তাবিত সুবিধার মধ্যে প্রশস্ত কেজের পাশাপাশি কুকুরদের জন্য খেলা ও ব্যায়ামের স্থান থাকবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হবে। কোয়ারান্টাইন সেকশনটি রোগ সংক্রমণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চিকিৎসা ইউনিটে মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এ ধরনের সেবা কুকুরদের রোগমুক্ত ও সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।
মিকা সিং সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করেন যে কুকুরদের কল্যাণে কোনো বিরূপ পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তার দানকৃত জমি এবং পরিকল্পিত শরণস্থলকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
এই উদ্যোগটি মিকা সিংকে বিনোদন জগতের বাইরে একজন প্রাণী অধিকার সমর্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হবে এবং প্রথম ধাপে জমির পরিকাঠামো গঠন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহ করা হবে। এরপর কেজ, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অন্যান্য সুবিধা নির্মাণ শুরু হবে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী এবং প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলি এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা শরণস্থল পরিচালনা, খাবার সরবরাহ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাবে।
মিকা সিং আশাবাদী যে তার এই পদক্ষেপ অন্যান্য শিল্পকর্মী ও সাধারণ মানুষকে প্রাণী কল্যাণে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি বলেন, সমাজের প্রত্যেকের ছোট ছোট অবদানই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল কুকুরদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রদান নয়, বরং শহুরে পরিবেশে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও সহাবস্থানের মডেল গড়ে তোলা। এভাবে মিকা সিং প্রাণী কল্যাণের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চান।



