কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ২৬ বছর বয়সী শাহীন আলমকে ৩২ কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাত ২ টার দিকে ফুলবাড়ী থানা ৩ নম্বর ইউনিয়নের বজরের খামার এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় গৃহে গোপনভাবে সংরক্ষিত গাঁজার প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে শ্রী শাহীনকে হাতে গিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গৃহে পাওয়া মাদকের পরিমাণ স্থানীয় মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিশুক্ত এম. মুক্তারুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মাদক ব্যবসা চালাচ্ছিল এবং তার বাড়িতে গাঁজার পাশাপাশি অন্যান্য অবৈধ পদার্থের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শ্রী শাহীনকে ‘মাদক কারবারি’ হিসেবে আইনি দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শ্রী শাহীনকে উপস্থিত করা হলে, বিচারক তাকে তৎক্ষণাৎ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযোগের ভিত্তিতে রিম্যান্ডের ব্যবস্থা করে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।
মুক্তারুজ্জামান অতিরিক্তভাবে জানান, গৃহে গাঁজা ছাড়াও কোনো অন্যান্য মাদক বা অস্ত্র পাওয়া যায়নি, তবে গাঁজার পরিমাণের ভিত্তিতে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, জেলায় মাদক নির্মূলের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযোগের মধ্যে ‘মাদক কারবারি’ ধারা অন্তর্ভুক্ত, যা আইনের অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণের সুযোগ দেয়। বর্তমানে তাকে জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আদালতের শুনানিতে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
অভিযানের সময় পুলিশ দল স্থানীয় তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে কাজ করেছে এবং গাঁজার সঠিক ওজন নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গাঁজার গুণগত মান ও উৎস সম্পর্কে আরও তদন্ত চলমান রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ মাদক দমন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ধরণের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে একই এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কয়েকটি ছোটখাটো মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
শ্রী শাহীনকে গৃহীত অভিযোগের ভিত্তিতে রিম্যান্ডের শর্তে জেলখানায় রাখা হবে এবং পরবর্তী আদালতের তারিখে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলখানায় রাখা হবে।
অধিক তদন্তে জানা যাবে, গাঁজার সরবরাহ চেইন এবং বিক্রয় নেটওয়ার্ক কীভাবে গঠিত ছিল। পুলিশ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরণের বড় পরিমাণের গাঁজা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয় না, বরং বৃহত্তর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রপ্তানি করা হতে পারে।
কুড়িগ্রাম জেলার মাদক দমন ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় মাপের মাদক সংক্রান্ত ঘটনা রোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, মাদক ব্যবসা সমাজের নিরাপত্তা ও নৈতিকতাকে ক্ষুণ্ন করে, তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোরভাবে কাজ করবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ মাদক দমন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে। শ্রী শাহীন আলমের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, তিনি জেলখানায় থাকবেন এবং আদালতের পরবর্তী রায়ের অপেক্ষা করবেন।



