মুম্বাইয়ের নেভি নগরে ১২ জানুয়ারি সুনীল শেট্টি ‘বর্ডার ২’ ছবির পুনর্নির্মিত গান ‘যাতে হুয়ে লমহন’ উন্মোচন করেন, যা চলচ্চিত্রের থিয়েটার মুক্তির আগে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি ছবির প্রচারাভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে পরিকল্পিত।
১৯৯৭ সালের ‘বর্ডার’ ছবিতে শেট্টি নিজেই এই গানের মূল সংস্করণে অভিনয় করেছিলেন। এবার মিথুনের সুরে এবং রূপ কুমার রথোদের কণ্ঠে গানের নতুন রূপ তৈরি করা হয়েছে, যা পুরনো স্মৃতিকে নতুন আবেগের সঙ্গে মিশ্রিত করে।
উন্মোচনটি মুম্বাইয়ের কলাবা এলাকায় অবস্থিত নেভি নগরে, একটি সীমাবদ্ধ ভারতীয় নৌবাহিনীর আবাসিক ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্থানটি চলচ্চিত্রের সামরিক থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংযোগ জোরদার হয়।
অনুষ্ঠানে সুনীল শেট্টি তার পুত্র আহান শেট্টি সহ ‘বর্ডার ২’ এর কাস্ট ও ক্রু সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। পরিবারিক পরিবেশে গানের উদ্বোধনটি একটি উষ্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
প্রচারণা দলটি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সামরিক সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান জানাতে এই ধরনের ইভেন্টের পরিকল্পনা করেছে। নৌবাহিনীর কর্মী ও তাদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সামরিক দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।
গান উন্মোচনের পরপরই ট্রেলার প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভারতের সর্বশেষ বিমানবাহী জাহাজ আইএনএস বিক্রান্তের ডেক থেকে করা হবে। এই জাহাজটি সাম্প্রতিক সময়ে অপারেশন সিন্ধূর এবং অপারেশন সাগর বন্ধু সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে।
আইএনএস বিক্রান্তের এই সামরিক অভিযানের উল্লেখ চলচ্চিত্রের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ ‘বর্ডার ২’ যুদ্ধের সময়ের নৌবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে। ছবির নির্মাতা অ্যানুরাগ সিং সামরিক সেবার গৌরব ও ত্যাগকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তুলেছেন।
‘বর্ডার ২’ মূল ছবির দেশপ্রেমিক বর্ণনাকে বজায় রেখে নতুন চরিত্র ও বিস্তৃত নৌবাহিনীর গল্প যোগ করেছে। এতে ১৯৭১ সালের ইন্দো- পাকিস্তান যুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোকে চলচ্চিত্রের কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আহান শেট্টি ছবিতে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম.এস. রাওয়াতের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। তিনি একটি নৌযানের কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনা করেন, যা চলচ্চিত্রের মূল কাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
চিত্রের প্রধান কাস্টে সানি দেোল এবং ভারুণ ধাওয়ানসহ অন্যান্য পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্ররা অন্তর্ভুক্ত। তাদের পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রের নাটকীয়তা ও আবেগকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বর্ডার ২’ এর থিয়েটার মুক্তি এই মাসের শেষের দিকে নির্ধারিত, এবং গানের উন্মোচন ও ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রচারমূলক কার্যক্রমগুলো ছবির মূল বার্তা—সামরিক সেবা ও ত্যাগ—কে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে লক্ষ্য রাখে।
সামগ্রিকভাবে, নেভি নগরে গানের উদ্বোধন এবং আইএনএস বিক্রান্তে ট্রেলার প্রকাশের পরিকল্পনা ‘বর্ডার ২’ কে শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং দেশের সামরিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানসূচক একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে।



