বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার সকাল ১২ জানুয়ারি থাকুরগাঁয়ের কালীবাড়িতে নিজের বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেটের সঙ্গে দেশের মর্যাদা জড়িত এবং কোনো ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে জাতিকে অপমান করা।
ফখরুলের কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দেশের সম্মান রক্ষায় ক্রিকেটের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে দেশকে অপমান করা” এবং এ বিষয়টি দেশের গর্বের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ক্রীড়া ও জাতীয় গর্বের সংযোগকে জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন।
মহাসচিবের ক্রীড়া পটভূমি উল্লেখ না করা যায় না; তিনি আগে ক্রিকেট খেলতেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা তাকে ক্রিকেটের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে।
আজকের দিনে তিনি ক্রিকেটের মাঠ থেকে সরে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। তার বক্তব্যে দেখা যায়, যদিও তিনি এখন রাজনৈতিক মঞ্চে বেশি সময় কাটান, তবুও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে তার দৃষ্টিভঙ্গি এখনও প্রাসঙ্গিক।
ফখরুল উল্লেখ করেন, ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকও রয়েছে, যা দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটের কোনো ঘটনার ফলে দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা রাজনৈতিক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
এদিকে, তিনি সরকারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করার বিষয়টি তিনি ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধার না করা সরকারের দুর্বলতা” এবং এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচনের সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় তিনি সরকারের এই দিকের অক্ষমতাকে রাজনৈতিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ভোটের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে।
ফখরুল তিস্তা, পদ্মা এবং দেশের অন্যান্য সমবায় নদীগুলোকে উল্লেখ করে বলেন, এসব নদীর মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে হিস্যা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, “তিস্তা‑পদ্মা সহ সব নদী থেকে হিস্যা আদায় করা হবে” এবং এটি দেশের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল।
এই সব মন্তব্যের পেছনে ফখরুলের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট: ক্রিকেটকে দেশের গর্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা এবং সরকারের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা। তিনি ক্রীড়া ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।
সারসংক্ষেপে, ফখরুলের বক্তব্য ক্রিকেটের সঙ্গে জাতীয় গর্বের সংযোগ, সরকারের নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং নদীর মাধ্যমে আর্থিক হিস্যা আদায়ের পরিকল্পনা নিয়ে গঠিত। তার এই মন্তব্যগুলো দেশের ক্রীড়া, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নীতির সমন্বিত বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।



