ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে খাবার প্রস্তুত করার অভিযোগে দুইজন নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পৃথক আদেশে উভয়কে হাসপাতালের কর্মস্থল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। এই পদক্ষেপটি রোগীর নিরাপত্তা ও হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রানি বালা হালদারকে তৎক্ষণাৎ কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কল্পনা রানী মণ্ডলের বাড়ি বরিশাল জেলায় এবং রানি বালা হালদারের বাড়ি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। উভয়ই হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে কাজ করতেন, যেখানে অপারেশন থিয়েটার এবং প্রসূতি সেবা একসাথে প্রদান করা হয়।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত লেবার ওয়ার্ডে একটি গ্যাসের চুলা রয়েছে, যা মূলত মেডিকেল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা এবং পানি গরম করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে, এই চুলা ব্যবহার করে নার্সরা নিয়মিতভাবে খাবার প্রস্তুত করতেন, যা হাসপাতালের অভ্যন্তরে অনুমোদিত নয়।
অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে খাবার তৈরি করা রোগীর সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত করতে পারে। তাই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্তে ত্রিসদস্য কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি হিসেবে সহকারী পরিচালক মো. জালাল হোসেনকে আহ্বান করা হয়েছে, সদস্য সচিব হিসেবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় এবং সদস্য হিসেবে সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মো. আদনান আহমেদ নিযুক্ত করা হয়েছে।
কমিটি তদন্তের সময় গ্যাসের চুলার ব্যবহার রেকর্ড, রান্না করা খাবারের ধরন এবং কর্মীদের কাজের সময়সূচি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া, অপারেশন থিয়েটারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বর্তমান নীতি ও প্রক্রিয়ার যথার্থতা মূল্যায়ন করা হবে।
হাসপাতালের প্রশাসন উল্লেখ করেছে যে, রোগীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো ধরনের অননুমোদিত কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই ঘটনার পর, হাসপাতাল কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ সেশন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নীতি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
অধিকন্তু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও হাসপাতালের এই ধরনের লঙ্ঘনের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অনুরূপ সমস্যার প্রতিরোধে কঠোর তদারকি চালিয়ে যাবে। রোগীর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব এবং পেশাগত মানদণ্ড মেনে চলা অপরিহার্য।
এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, হাসপাতালের অভ্যন্তরে গ্যাসের চুলা বা অন্য কোনো সরঞ্জাম ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কর্মস্থলে খাবার প্রস্তুত করার জন্য আলাদা ক্যান্টিন বা নির্ধারিত স্থান থাকা দরকার, যাতে রোগীর সেবা ও নিরাপত্তা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরখাস্তকৃত নার্সদের উপর শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে, কর্মীদের জন্য নৈতিকতা ও পেশাগত আচরণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে রোগীর সেবা মান উন্নত করা হবে।
এই ধরনের ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মের প্রতি অবহেলা ও অনুপযুক্ত আচরণের ফলাফল হিসেবে দেখা যায়। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোকে নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ অডিট এবং কর্মীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
আপনার মতামত কী? হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা কি রোগীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



