জুলাই মাসে জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত গণভোটের ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক প্রশিক্ষণসূচি চালু করেছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সোমবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে রোববার বরিশালে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন এবং ইমাম সম্মেলন আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সেশনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজ ও মনির হায়দার গণভোটের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন।
একই ধরণের কর্মসূচি সোমবার রাজশাহীতে শুরু হয়। এরপর রংপুরে বুধবার এবং পরদিন চট্টগ্রামে একই রকম প্রশিক্ষণ চালু হয়। জানুয়ারি মাসে আরও চারটি শহরে ইমাম সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা নির্ধারিত হয়েছে: ১৭ জানুয়ারি ঢাকায়, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহে, ২২ জানুয়ারি সিলেটে এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনায়।
এই সব কার্যক্রম প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিভাগীয় কমিশনারের অফিসের মাধ্যমে সংগঠিত হয়, আর ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকবেন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধি, এনজিও প্রধান, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের অন্যান্য স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণভোটের সরকারি প্রচারণা সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন চালাবে এবং ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করবে।
গণভোটের মূল প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হবে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর প্রতি ভোটারদের সম্মতি আছে কি না। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী গঠন করা হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষবিশিষ্ট করা হবে, যেখানে উচ্চকক্ষের ১০০টি সিট দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী বরাদ্দ করা হবে। এই দুইটি প্রস্তাবের জন্য ভোটারদের হ্যাঁ বা না উত্তর দিতে হবে।
প্রশিক্ষণসূচির লক্ষ্য হল ভোটারদের গণভোটের প্রক্রিয়া, প্রশ্নের বিষয়বস্তু এবং ভোটের ফলাফল কীভাবে গণনা হবে তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া। এতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা ভোটারদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইমামদের জন্য বিশেষ সেশন পরিচালনা করে, যেখানে ধর্মীয় নেতাদের ভোটের গুরুত্ব, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংবিধান সংস্কারের প্রভাব এবং ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের অফিসের মতে, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের একটি সংক্ষিপ্ত সার্ভে করা হবে, যাতে তারা কতটুকু তথ্য অর্জন করেছে এবং জনসাধারণের কাছে কীভাবে তা পৌঁছে দিতে পারে তা মূল্যায়ন করা যায়।
গণভোটের আগে এই ধরণের ব্যাপক সচেতনতা ক্যাম্পেইন সরকারকে ভোটের ফলাফলকে স্বচ্ছ ও বৈধ করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা বিরোধী গোষ্ঠীর স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিকভাবে, জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত গণভোটের প্রস্তুতি দেশের বিভিন্ন স্তরে সমন্বিতভাবে এগিয়ে চলছে, এবং সরকার জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের এবং ধর্মীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।



