চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াতে ইসলামীর একেডি (এম) ফজলুল হক, দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে বাতিল হওয়া তার প্রার্থিতা আপিল শুনানিতে প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে ফজলুল হকের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। ফলে তিনি আদালতে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
রোববারের শুনানিতে ফজলুল হক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার জিয়া উদ্দিন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন এবং নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
শুনানি শেষে ফজলুল হক অভিযোগ করেন যে তিনি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির বহু প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্র না দেখিয়েই মনোনয়ন পেয়েছেন, আর তার ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনই প্রার্থিতা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।
চট্টগ্রাম-৯ আসনটি কোতোয়ালি ও বাকলিয়া থানা নিয়ে গঠিত, যা শহরের ১৬টি আসনের মধ্যে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের দক্ষিণ জেলার সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানসহ মোট বারোজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফজলুল হক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ধারণ করলেও, ২৮ ডিসেম্বর তিনি তা ত্যাগের শপথ নেয়ার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় নথি না দেখাতে পারায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।
শুনানির সময়সূচি অনুযায়ী ১৪১-২১০ নম্বর আপিলের বিষয়টি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে চলবে। এই শুনানিতে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন দাখিল হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে সব আপিলের শুনানি শেষ হবে। এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা থাকবে, যার পর চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারিত হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ফজলুল হকের আপিল প্রত্যাখ্যানের ফলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এই মুহূর্তে অস্থির অবস্থায় রয়েছে। তিনি আদালতে রায়ের অপেক্ষায় থাকবেন এবং ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
বিএনপি ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকার করেছে, তবে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে সকল প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম-৯ আসনের রাজনৈতিক গতিবিধি পুনরায় গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ফজলুল হকের আদালতে দায়ের করা মামলাটি কীভাবে রায় দেবে এবং তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলবে, তা দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।



