শরীয়তপুর জেলায় লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপি গ্যাস) সিলিন্ডারের সরবরাহে গুরুতর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ২০টি অনুমোদিত ডিলার সত্ত্বেও কোনো সিলিন্ডার বাজারে পৌঁছাচ্ছে না, ফলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না এবং ক্রেতারা ২,২০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডিলারদের মতে, মোটামুটি ২০ জন ডিলার থাকা সত্ত্বেও সিলিন্ডার শূন্যে পৌঁছেছে। কিছু ডিলারের কাছে টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডার থাকলেও দাম বৃদ্ধি পেয়ে ১,৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না।
গ্যাসের রেগুলেটর সাইজের পার্থক্যও সমস্যার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। টোটাল গ্যাসের নতুন রেগুলেটরের সাইজ ২০, যেখানে অধিকাংশ বাসিন্দার বাড়িতে ২২ সাইজের রেগুলেটর রয়েছে। ফলে নতুন রেগুলেটর না থাকলে সিলিন্ডার ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
শহরের দোতলা ও বহুতল ভবনে বসবাসকারী পরিবারগুলো বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। মাটির চুলা না থাকায় লাকড়ি চুলায় রান্না করা সম্ভব নয়, আর গ্যাস না থাকলে হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডিলার সেলিম খান ও বেলায়েত হোসেনের মতে, টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে চাহিদার অর্ধেক সিলিন্ডারই পৌঁছেছে, মোট চাহিদা ১,০০০ সিলিন্ডার হলেও কেবল প্রায় ৪০০টি সরবরাহ করা হয়েছে।
ডিলাররা গাড়ি নিয়ে ছয়-সাত দিন পরপর টোটাল গ্যাসের প্ল্যান্টে গিয়ে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে আসছেন, তবে সরবরাহের গতি চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট কম।
স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্যাস না থাকলে দৈনন্দিন খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বাড়িতে খাবার না থাকলে হোটেল-রেস্টুরেন্টের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
রেস্টুরেন্ট ও হোটেল ব্যবসায়ীরা গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে লাভের মার্জিন সংকুচিত হচ্ছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২,২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা পূর্বের মূল্যের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
শরীয়তপুর জেলা গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট উল্লেখ করেছেন, সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক খাতের ব্যয় বাড়াবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যাসের ঘাটতি ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গৃহস্থালী খাবার প্রস্তুতির খরচ বাড়লে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট ও হোটেলের অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সেবার দামেও প্রতিফলিত হবে।
সরকারি পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। যদি সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকে, গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি, যেমন বায়ো গ্যাস বা বৈদ্যুতিক চুলা, ব্যবহার বাড়তে পারে, যা বাজারে নতুন চাহিদা সৃষ্টি করবে।
সংক্ষেপে, শরীয়তপুরে গ্যাসের সরবরাহের অভাব, দাম বৃদ্ধি এবং রেগুলেটর সাইজের অমিল ভোক্তা ও ব্যবসায়িক খাতের ওপর তীব্র আর্থিক চাপ তৈরি করছে। সরবরাহ শৃঙ্খল দ্রুত সুষ্ঠু করা, দাম স্থিতিশীল করা এবং রেগুলেটর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা এই সংকটের মূল সমাধান হতে পারে।



