ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে “শক্তিশালী” পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন, যখন দেশের তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করা বিরোধী প্রতিবাদে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
ইরানের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) প্রায় ৫০০ জন প্রতিবাদকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, তবে অন্যান্য সূত্রে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ট্রাম্পের মতে ইরানি কর্মকর্তারা তাকে আলোচনার জন্য ফোন করেছেন, তবে তিনি যোগ করেন যে কোনো বৈঠক হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
ইরানি শীর্ষ নেতারা প্রতিবাদকারীদেরকে “বন্দুকধারী ভ্যান্ডাল” বলে অভিযুক্ত করে, এবং তাদের সমর্থকদেরকে সোমবার সরকার-বান্ধব র্যালিতে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার তিন দিন শোকের ঘোষণা দিয়েছে, শহীদদেরকে “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতীয় সংগ্রামের শিহরণে নিহত” হিসেবে উল্লেখ করে, এবং এই দুই দেশের ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তিতে ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে।
মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের ফলে ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া প্রতিবাদগুলো ধীরে ধীরে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনীর শাসনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ট্রাম্প এখনো কোন নির্দিষ্ট সামরিক বিকল্পের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানি নেতারা আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থেকে ক্লান্ত।
একজন আমেরিকান কর্মকর্তা ট্রাম্পকে ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের বিকল্পগুলো সম্পর্কে অবহিত করেছেন, আর অন্যান্য সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে অনলাইন প্রো-সরকারি গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করা, সাইবার অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা, অথবা অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
রাতের সময় প্রতিবাদগুলো পূর্বের তুলনায় কম তীব্রতা পেয়েছে, তবে সরকারের কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ছে।
প্রতিবাদ চলাকালীন দুই সপ্তাহে কমপক্ষে ১০,৬০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং সংবাদ সংস্থা অনুসারে ১৮০টি দেহের ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, আর ইরানি সরকার জাতীয়তাবাদী অনুভূতি জোরদার করে আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকবে, একই সঙ্গে ইরান সরকার হয়তো আলোচনার পথে এগিয়ে যাবে অথবা দমনমূলক পদক্ষেপ বাড়াবে, যা অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করবে।



