অভিষেক বচ্চন গিফট সিটি, গন্ধিনগর, গুজরাটে রিয়েল এস্টেট খাতে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রযোজক ও রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা আনন্দ পন্ডিতের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগির চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য এক মিলিয়ন বর্গফুটের বেশি বিল্ড‑আপ এলাকা নিয়ে উচ্চমানের আবাসিক, অফিস ও রিটেইল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা।
চুক্তি অনুসারে, আনন্দ পন্ডিত প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা ও নির্মাণের দায়িত্ব নেবেন, আর মুনাফা ভাগাভাগি দুজনের মধ্যে সমানভাবে হবে। উভয় পক্ষই গিফট সিটির কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শহুরে জীবনের চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেবেন। এই সহযোগিতা গুজরাটের রিয়েল এস্টেট বাজারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
প্রকল্পের মোট নির্মাণ ক্ষেত্র এক মিলিয়ন বর্গফুটের বেশি, যেখানে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, শীর্ষস্থানীয় অফিস স্পেস এবং আধুনিক শপিং মল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্সে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও স্মার্ট সিস্টেমের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। ফলে গিফট সিটির সামগ্রিক আকর্ষণ বাড়বে এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রার চাহিদা মেটাবে।
এই জমি প্রথমে ২০০৭ সালে অমিতাভ বচ্চন ৭ কোটি টাকায় ক্রয় করেন। তখন তিনি গুজরাটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছিলেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখে এই বিনিয়োগ করেন। জমির ক্রয়মূল্য এবং বর্তমান মূল্যের পার্থক্য এই বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যকে তুলে ধরে।
জমিটি আহমদাবাদের চাঁদলদিয়া এলাকার ভারম্বাই রুদাভাই গামারার কাছ থেকে কেনা হয়। বিক্রয় চুক্তি স্থানীয় রিয়েল এস্টেট বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। এই লেনদেনের মাধ্যমে অমিতাভ বচ্চন গুজরাটের রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেন।
লেনদেনের সময় এ.বিসি.এল.এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ রিশিকেশ যাদব, যিনি অমিতাভ বচ্চনের পাওয়ার‑অফ‑অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করছিলেন, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তদারকি করেন। তার উপস্থিতি এবং আইনি সহায়তা লেনদেনকে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। ফলে জমির মালিকানা স্পষ্টভাবে অমিতাভ বচ্চনের নামে রেজিস্টার হয়।
জমির পরিমাণ ৫.৭২ একর, যা শাহপুর গ্রামে গিফট সিটির নিকটবর্তী। এই অবস্থানটি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ও আবাসিক উন্নয়নের জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। গ্রামটির পরিবহন সংযোগ এবং নগর পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গিফট সিটির বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ।
বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, এই জমির মূল্য প্রায় ২১০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রাথমিক ৭ কোটি টাকার বিনিয়োগের তুলনায় ২০৩ কোটি টাকার বৃদ্ধি ঘটেছে। এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধি ১৫ বছরের মধ্যে অর্জিত হয়েছে, যা রিয়েল এস্টেট বাজারের উত্থানকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
শাহপুর গ্রামের প্রধান হে.কে. প্যাটেল উল্লেখ করেন, অমিতাভ বচ্চনের এই বিনিয়োগ গ্রামটির আত্মবিশ্বাসে বড় সঞ্চার ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, জমির মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন প্রকল্পের সূচনা স্থানীয় রিয়েল এস্টেটের দামকে ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে গ্রামটি দ্রুত নগরায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণের দায়িত্ব লোটাস ডেভেলপারসের হাতে। যদিও জমির মালিকানা এখনও বচ্চন পরিবারে রয়ে গেছে, লোটাস ডেভেলপারসের নকশা দল আধুনিক স্থাপত্যের নীতি অনুসারে পরিকল্পনা তৈরি করবে। এই সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে।
নির্মাণ কাজের বাস্তবায়ন লোটাস ডেভেলপারসের সাবসিডিয়ারি রাইজ রুট প্রোজেক্টস প্রা. লি. দ্বারা পরিচালিত হবে। এই সংস্থা অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগির চুক্তি অনুসারে কাজ করবে, ফলে প্রকল্পের আর্থিক ঝুঁকি ও লাভ উভয়ই ভাগ করা হবে। এই মডেল রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসায়িক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।
অবশেষে, এই উদ্যোগ গিফট সিটি ও আশেপাশের অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভিষেক বচ্চনের রিয়েল এস্টেট প্রবেশ এবং অমিতাভ বচ্চনের প্রাথমিক বিনিয়োগের সমন্বয় গুজরাটের নগর বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা যাবে।



