সিরাজগঞ্জ জেলার বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি ধর্মীয় সমাবেশে জামায়াত ইসলামীকে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলের নামের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত থাকায় জি.আই. ধর্মীয় আলোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
বাচ্চু বলেন, ইসলামী জালসায় অনেক ধর্মীয় পণ্ডিত জি.আই.কে সমর্থন করেন না, কারণ তারা মওদুদিবাদী আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক লাভের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে, এটাই তার মূল অভিযোগ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী জালসায় মানুষ কোরআন‑হাদিসের আলোচনা শোনার জন্য আসে, কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া উপযুক্ত নয়। ধর্মীয় পরিবেশে রাজনৈতিক প্রচার করা ভোটারদের ভুল পথে চালিত করতে পারে, এ কথায় তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
এই মন্তব্যের আগে জি.আই.র একাধিক প্রার্থীর ধর্মীয় ভাষণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ঝালকাঠি‑১ (রাজাপুর‑কাঠালিয়া) আসনের জি.আই. প্রার্থী ফয়েজুল হক একটি উঠান বৈঠকে ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে ভোটারদের সম্বোধন করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফয়েজুল হকের বক্তব্যের পর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক প্রচার করা নির্বাচনী কোডের বিরোধী। এই ঘটনার ফলে জি.আই.র নির্বাচনী কৌশল ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিএনপি বাচ্চুর মন্তব্যের সঙ্গে জি.আই.র নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জি.আই.র পূর্ববর্তী প্রকাশনা ও বক্তৃতা থেকে দেখা যায়, তারা ধর্মীয় আলোচনাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, বাচ্চুর এই মন্তব্য জি.আই.র ধর্ম-রাজনীতি সংযোগকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল হতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে ধর্মীয় ভোটারগোষ্ঠীর মনোভাব গঠন করতে। ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তা না দিয়ে ধর্মীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকা ভোটারদের আস্থা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, জি.আই.র সমর্থকরা দাবি করেন, ধর্মীয় আলোচনায় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা স্বাভাবিক, কারণ ধর্মীয় নীতি সমাজের সব দিককে প্রভাবিত করে। তারা বাচ্চুর মন্তব্যকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এই বিতর্কের ফলে দু’পক্ষের মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের সীমানা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী সময়ে ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্যের অনুমোদন বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আইনগত দিক থেকে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে, যদি জি.আই. ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তা চালিয়ে যায়, তবে নির্বাচনী কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যা পার্টির প্রচার কৌশলকে প্রভাবিত করবে। অন্যদিকে, বিএনপি ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে ভোটারদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার দাবি জানাবে।
এই পরিস্থিতি দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমন্বয়কে পুনরায় মূল্যায়নের দরজা খুলে দেবে। ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ না হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু জি.আই.র ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্যের ব্যবহারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন, এবং পূর্বে জি.আই. প্রার্থীর ধর্মীয় ভাষণ নিয়ে নির্বাচনী কোড লঙ্ঘনের নোটিশ জারির সঙ্গে এই বিষয়টি পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। উভয় পক্ষের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নজর রাখবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।



