প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৮৩তম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অনুষ্ঠানে তৃতীয়বার উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি টেলিভিশন সিরিজ‑ড্রামা বিভাগে সেরা পুরুষ অভিনেতার পুরস্কার উপস্থাপন করেন, যা তিনি লালিসা মানোবাল (লালিসা) এর সঙ্গে ভাগ করে নেন। বিজয়ী নোয়া ওয়াইল, “দ্য পিট” সিরিজের জন্য নির্বাচিত হয়।
এই অনুষ্ঠানটি হলিউডের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রাত, যেখানে বিশ্বজুড়ে শিল্পী ও সেলিব্রিটি সমবেত হন এবং পুরস্কার বিতরণ লাইভ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। প্রিয়াঙ্কা তার উপস্থিতি দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় প্রতিভার শক্তি পুনরায় জোর দেন এবং গ্লোবের বৈশ্বিক আকর্ষণকে বাড়িয়ে তোলেন।
রেড কার্পেটের ওপর তিনি জোনাথন অ্যান্ডারসনের ডিজাইন করা ডিয়র হাউট কুটুর কাস্টম পোশাক পরিধান করেন, যা গভীর নেভি রঙে আধুনিক কাটিং ও সূক্ষ্ম অলংকরণ সমন্বিত। সঙ্গে বুলগারির চমকপ্রদ গয়না জোড়া ছিল, যা শক্তি ও শোভা মিশ্রিত করে তার স্টাইলকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। শিল্প জগতের বিশ্লেষকরা তার এই রূপকে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের সমন্বয় হিসেবে প্রশংসা করেন।
প্রিয়াঙ্কা সহ উপস্থাপক তালিকায় আনা দে আরমাস, জর্জ ক্লুনি, জুলিয়া রবার্টস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক তারকা ছিলেন, যারা বিভিন্ন ক্যাটেগরির বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই সমাবেশ গোল্ডেন গ্লোবের বৈশ্বিক আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন শিল্পের সংযোগকে দৃঢ় করেছে।
তিনবারের বেশি গোল্ডেন গ্লোবের আমন্ত্রণ পেয়েছেন খুব কমই ভারতীয় অভিনেতা। প্রিয়াঙ্কা এই মাইলফলক অর্জন করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে দৃঢ় করেন এবং তার ধারাবাহিক উপস্থিতি ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি বাড়ায়। তার উপস্থিতি ভারতীয় শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট।
রেড কার্পেটের পরেও প্রিয়াঙ্কা বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যস্ত। তিনি সম্প্রতি “দ্য ব্লাফ” শিরোনামের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম দৃশ্য প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি এর্সেল “ব্লাডি মেরি” বডেন নামের এক দস্যু রাণীর ভূমিকায় অভিনয় করবেন। এই ছবি রুশ ভাইদের পরিচালিত, রেটেড R অ্যাকশন থ্রিলার, যা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুক্তি পাবে।
“দ্য ব্লাফ” ছাড়াও প্রিয়াঙ্কা অন্যান্য প্রত্যাশিত কাজের প্রস্তুতিতে রয়েছেন, যা তার বহুমুখী শিল্পী পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিনি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে সমানভাবে কাজ করে দুই সংস্কৃতির সেতু গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন প্রকল্পে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গোল্ডেন গ্লোবের মঞ্চে তার উপস্থিতি এবং আসন্ন চলচ্চিত্রের ঘোষণা দুটোই প্রমাণ করে যে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস বিশ্ববাজারে ভারতীয় প্রতিভার এক শক্তিশালী রূপ। তার সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শিল্পের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।



