২০২৬ সালের গল্ডেন গ্লোবসের সমারোহে সেরা ছবি‑মিউজিক্যাল বা কমেডি বিভাগে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রটি শীর্ষে উঠে এসেছে। এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে।
এই শিরোপার প্রতিযোগিতায় ‘ব্লু মুন’, ‘বুগোনিয়া’, ‘নো আদার চয়েস’, ‘নুভেল ভ্যাগ’ এবং ‘মার্টি সুপ্রিম’ নামের পাঁচটি চলচ্চিত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি ছবিই নিজস্ব শৈলী ও গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তবে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ শেষ পর্যন্ত জয়ী ঘোষণা করা হয়।
চলচ্চিত্রের প্রযোজক সারা মারফি পুরস্কার গ্রহণের সময় সংক্ষিপ্ত ভাষণে এই অর্জনকে এক বিশাল সম্মান হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সাফল্যটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত এবং এটি বহু বছর পরের স্বপ্নের মতো অনুভূত হয়েছে।
মারফি এই জয়ের পেছনে মৃত প্রযোজক অ্যাডাম সোমনার অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন, যিনি থাইরয়েড ক্যান্সার থেকে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ৫৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। সমনার স্মরণে তিনি বলেছিলেন, “প্রতিদিন তার অনুপস্থিতি অনুভব করি, তবে তার আত্মা এই পুরস্কারকে আরও মূল্যবান করেছে।”
প্রযোজক তার কাস্ট, পরিবার এবং সহকর্মী পল থমাস অ্যান্ডারসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মারফি উল্লেখ করেন, “কাস্টের প্রতিভা ও পরিশ্রম ছাড়া এই জয় সম্ভব হতো না, এবং পল থমাস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য এক বিশেষ গৌরব।”
সেই রাতে পল থমাস অ্যান্ডারসনও সেরা পরিচালক এবং সেরা স্ক্রিনপ্লে পুরস্কার জিতেছেন। তিনি তার কাস্টের সদস্য শায়না ম্যাকহেইল, যাকে জঙ্গলপাসি নামেও জানা যায়, তার সৃষ্টিশীল অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। শায়না স্ক্রিপ্টে একটি স্মরণীয় লাইন যোগ করেছিলেন, যা অ্যান্ডারসন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, টেয়ানা টেলর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ছবিতে পারফিডিয়া বেভারলি হিলস চরিত্রে অভিনয় করে সেরা সহায়ক অভিনেত্রী পুরস্কার অর্জন করেন। তার পারফরম্যান্সকে সমালোচক ও দর্শক উভয়ই প্রশংসা করেছেন, যা ছবির সামগ্রিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গল্ডেন গ্লোবসের পূর্ণ বিজয়ীর তালিকা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে অন্যান্য বিভাগে জয়ী চলচ্চিত্র ও ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকাটি চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
গল্ডেন গ্লোবসের আয়োজক ডিক ক্লার্ক প্রোডাকশনস বর্তমানে পেন্সকে মিডিয়া এলড্রিজের যৌথ উদ্যোগের অধীনে পরিচালিত হয়। পেন্সকে মিডিয়া কর্পোরেশন ও এলড্রিজের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্লোবসের উৎপাদন ও প্রচার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে, এবং একই সংস্থা দ্য হলিউড রিপোর্টারও পরিচালনা করে।
এই পুরস্কার জয় চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি দর্শকদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি বাঙালি চলচ্চিত্র ও শিল্পী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে এই আশায় শিল্প জগতের সকল অংশীদার একত্রে কাজ চালিয়ে যাবে।



