বিটোপিয়া গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পাঁচ লাখ টাকার প্রাথমিক মূলধন ও সাতজন কর্মী দিয়ে শুরু হয়। আজকের দিনে গ্রুপের অধীনে প্রায় চার হাজার কর্মী কাজ করছে এবং মাসিক বেতন ব্যয় আট কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রতিষ্ঠার শুরুর বছরগুলোতে মনির হোসেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে একা কাজ করতেন। ২০১৩ সালে তিনি ওডেস্ক ও ইল্যান্সের মতো সাইটে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন এবং পরে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বিডি কলিং আইটি গঠন করেন।
বিডি কলিং আইটি মূলত ওয়েব ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ভিজ্যুয়াল ও ক্রিয়েটিভ ডিজাইন, ডেটা এন্ট্রি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সেবায় কাজ করত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেবা পরিসর বিস্তৃত হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সমাধান যুক্ত হয়।
বিটোপিয়া গ্রুপের অধীনে বর্তমানে ২২টি স্বতন্ত্র কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে। এই কোম্পানিগুলো ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, অবকাঠামো ইত্যাদি শিল্পে ইন্ডাস্ট্রি-স্পেসিফিক সমাধান প্রদান করে। এছাড়া সরবরাহ শৃঙ্খল ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিনিয়োগ রয়েছে।
গ্রুপের সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ব্রাজিল, ফিলিপাইনসহ ৭৮টি দেশে গ্রুপের কার্যক্রম বিস্তৃত। মোট কাজের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লায়েন্টের জন্য সম্পন্ন হয়।
দুই বছর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই সময়ে বিডি কলিং আইটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪০০ এবং মাসিক আয় প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা, অর্থাৎ বার্ষিক প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা।
এরপরের দুই বছরে কর্মীসংখ্যা প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে চার হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে আয়ও প্রায় সাত গুণ বেড়ে মাসিক দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ থেকে প্রায় আট কোটি টাকার স্তরে উঠেছে।
বিটোপিয়া গ্রুপের মোট বিনিয়োগ ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে ৩ কোটি ব্যাংক ঋণ এবং অবশিষ্ট ৪২ কোটি নিজের মূলধন থেকে এসেছে। এই মূলধন দিয়ে গ্রুপের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রসর হয়েছে।
গত অর্থবছরে গ্রুপের সব সংস্থার সম্মিলিত বার্ষিক আয় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি রেকর্ড করেছে। এই আয় বৃদ্ধি গ্রুপের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
বিটোপিয়া গ্রুপের দ্রুত বৃদ্ধি দেশের প্রযুক্তি শিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। শূন্য থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার থেকে বৃহৎ স্কেলের প্রযুক্তি সমাধান প্রদানকারী পর্যন্ত তাদের যাত্রা উদ্যোক্তা মনোভাবের শক্তি প্রদর্শন করে।
বাজার বিশ্লেষকরা গ্রুপের ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। এআই, ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপের এই ক্ষেত্রের বিনিয়োগ রিটার্ন বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রা ওঠানামা, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন এবং প্রতিযোগিতামূলক চাপ ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। এসব বিষয় মোকাবিলায় গ্রুপের আর্থিক কাঠামো ও প্রযুক্তি পোর্টফোলিওকে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, পাঁচ লাখ টাকার শুরুর মূলধন থেকে শুরু করে এখন মাসিক আট কোটি টাকার বেতন প্রদানকারী এবং চার হাজার কর্মী নিয়োগকারী একটি বৃহৎ প্রযুক্তি গ্রুপে রূপান্তরিত হয়েছে বিটোপিয়া গ্রুপ। দেশের স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমের জন্য এ ধরনের স্কেল‑আপ মডেল ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তাদের জন্য রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে।



