২০২৬ সালের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অনুষ্ঠানে রিয়া সেহর্ন ‘প্লুরিবাস’ ধারাবাহিকের জন্য সেরা নারী অভিনেত্রী (ড্রামা টিভি সিরিজ) পুরস্কার অর্জন করেন। এই স্বীকৃতি তাকে প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোব জয়ী করে তুলেছে এবং একই সঙ্গে তার চরিত্রের জন্য সর্বোচ্চ প্রশংসা এনে দেয়।
পুরস্কার গ্রহণের সময় সেহর্ন প্রকাশ করেন যে তিনি এই বিজয়ে সম্পূর্ণভাবে অবাক। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তার হৃদয় ধুকপুক করে এবং তিনি নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
উপস্থাপনা করেন কুইন লাতিফা, যাকে তিনি দুই দশক আগে একটি ফাস্ট‑ফুড রেস্তোরাঁতে সাক্ষাৎ করার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন। সেহর্নের মতে, সেই প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই লাতিফা তার প্রতি সদয় আচরণ করেছেন, যা আজকের এই স্বীকৃতিতে একটি স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।
স্বীকারোক্তি বক্তৃতায় সেহর্ন কিছু হালকা মেজাজের মন্তব্যও করেন, যেখানে তিনি নিজেকে ‘বিটা‑ব্লকারের প্রেসক্রিপশন’ দরকারের রসিকতা দিয়ে মজার ছলে প্রকাশ করেন। যদিও তিনি সেই রসিকতা বাস্তবে প্রয়োগ করেননি, তবু তার স্বাভাবিক স্বরভঙ্গি শ्रोतাদের হাসি এনে দেয়।
বছরের অন্যান্য শীর্ষ পারফরম্যান্সকারী অভিনেত্রীরাও সেহর্নের সঙ্গে তালিকাভুক্ত ছিলেন; ক্যাথি বেটস, ব্রিট লোয়ার, হেলেন মিররেন, বেলা রামসি এবং কেরি রাসেল। সেহর্ন তাদের প্রত্যেকের কাজের প্রশংসা করে বলেন, তাদের সঙ্গে নাম তালিকাভুক্ত হওয়া নিজে জন্যই গর্বের বিষয়।
অবশেষে তিনি কক্ষের সকল নারীকে ধন্যবাদ জানান, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যে সমর্থন ও নিরাপত্তা তারা প্রদান করেছেন, তা তিনি ‘ভয়ঙ্কর’ পার্টি পরিবেশে তার জন্য সান্ত্বনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই জয় সেহর্নের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ তিনি প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোবের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন এবং একই সঙ্গে জয়ী হয়েছেন। তার এই স্বীকৃতি তার দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের ফলাফল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
‘প্লুরিবাস’ ধারাবাহিকটি এই বছর দুটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে; সেহর্নের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সিরিজটি সর্বোত্তম ড্রামা টিভি সিরিজের জন্যও বিবেচিত হয়েছে। এই দ্বৈত মনোনয়ন সিরিজের গুণগত মানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যায়।
সেহর্নের বক্তৃতায় তিনি সিরিজের স্রষ্টা ভিন্স গিলিগ্যানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি গিলিগ্যানকে ‘জীবনের সর্বোত্তম ভূমিকা’ লিখে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার ওপরের বিশ্বাসকে প্রশংসা করেন, যা তাকে প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করার প্রেরণা দেয়।
রিয়া সেহর্নের এই সাফল্য তার শিল্পজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ‘প্লুরিবাস’ ধারাবাহিকের সাফল্যের সঙ্গে তার নামকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ভবিষ্যতে তিনি কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন, তা শিল্পপ্রেমীদের জন্য আগ্রহের বিষয়।



