28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ মার্চ পর্যন্ত নন‑পারফরমিং ঋণ ২৫%ে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ মার্চ পর্যন্ত নন‑পারফরমিং ঋণ ২৫%ে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) গতকাল তার সদর দফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে নন‑পারফরমিং ঋণ (এনপিএল) হারের লক্ষ্য ২৫ শতাংশে নামাতে নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান হারে ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ঋণের পরিমাণের সঙ্গে যুক্ত। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঋণ পুনর্গঠন, আইনি পুনরুদ্ধার এবং ডিফল্টারদের উপর তীব্র ফলো‑আপ প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

বৈঠকে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) থেকে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান মশরুর আরেফিন। সভার সভাপতিত্ব করেছেন বিবি গভর্নর আহসান হ. ম. হোসেন, সঙ্গে ডেপুটি গভর্নর, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে কাজ করা সচিব নাজমা মোবারেকও অংশগ্রহণ করেন।

বিবি গভর্নর বৈঠকে ব্যাংকগুলোর বর্তমান ডিফল্ট ঋণ মোকাবিলার প্রচেষ্টার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ববর্তী উদ্যোগ সত্ত্বেও, ডিফল্ট ঋণের পরিমাণে যথেষ্ট হ্রাস না হওয়ায় উদ্বেগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এই উদ্বেগের পটভূমি হল, ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ডিফল্ট ঋণ টাকার পরিমাণ ৬.৪৪ লাখ কোটি, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান।

এক বছর আগে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ একই পরিসংখ্যান ছিল ১৬.৯৩ শতাংশ। এক বছরের মধ্যে এনপিএল হারের দ্বিগুণ বৃদ্ধি ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক শাসনের ওপর প্রশ্ন তুলেছে। ২০০০ সাল থেকে এই হারের সর্বোচ্চ স্তর হওয়ায় সিস্টেমিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সমর্থনে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৩০০টি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে বেশ কিছু বৃহৎ কংগ্লোমারেট অন্তর্ভুক্ত, মোট প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাসের আবেদন করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ কমিয়ে ব্যাংকের সম্পদ গুণগত মান উন্নত করা।

ডিফল্ট ঋণ হ্রাসের জন্য ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, যিনি কর্পোরেট ঋণ পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের নীতি নির্দেশনা প্রদান করেন, বিশেষত এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ঋণগ্রহীতা অপ্রত্যাশিত বাধার সম্মুখীন হন।

বিবি কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে, আইনি রিকভারি মেকানিজমকে ত্বরান্বিত করতে এবং ডিফল্টারদের ট্র্যাকিং সিস্টেমকে আধুনিকায়ন করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো না শুধুমাত্র এনপিএল হ্রাসে সহায়তা করবে, বরং ব্যাংকিং সেক্টরের আস্থা পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ঋণদাতাদের জন্য অতিরিক্ত রিস্ক প্রিমিয়াম এবং ঋণদানের শর্ত কঠোর হতে পারে। অন্যদিকে, সফল হ্রাসের ফলে ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদ হার কমে যেতে পারে এবং ক্রেডিট প্রবাহে স্বস্তি আসবে।

এই নীতি পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকিং শাখাগুলোর লিকুইডিটি অবস্থানও পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা নিয়ন্ত্রক তদারকি বাড়াবে।

ভবিষ্যতে, বিবি যদি লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি দেখায়, তবে এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে, ডিফল্টারদের সংখ্যা ও ঋণ পরিমাণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ব্যাংকিং সেক্টরের ঝুঁকি প্রোফাইলকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাবে, যা নীতি নির্ধারকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করবে।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন লক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট নীতি উদ্যোগগুলো দেশের আর্থিক বাজারে পুনর্গঠন, ঝুঁকি হ্রাস এবং ক্রেডিট প্রবাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত। এই প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করবে ব্যাংকগুলোর কার্যকরী বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতার ওপর।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments