নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএল (বেঙ্গল প্রিমিয়ার লিগ) নবম রাউন্ডে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ রানের পার্থক্যে জয়লাভের মুহূর্তে বাবা‑ছেলে মোহাম্মদ নাবি ও হাসান ইসাখিল একসঙ্গে মাঠে নামেন। ১৯ বছর বয়সী ইসাখিলের প্রথম বিপিএল ম্যাচে তিনি ৯২ রান সংগ্রহ করেন, আর ৪১ বছর বয়সী নাবি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যার মধ্যে একটি সরাসরি থ্রোয়ে রান‑আউট।
দুই দলের শুরুরই অর্ধে নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইন‑আপে ইসাখিলের উজ্জ্বল শুরুর সঙ্গে ৩০ রানের স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে উঠে, যেখানে নাবি ৫৩ রান যোগ করেন। ইসাখিলের ৯২ রানের ইনিংস দলকে শক্তিশালী মোট স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যা ক্যাপিটালসকে তাড়া করতে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করে। শেষের দুই ওভারের মধ্যে নাবি আউট হন, তবে তার পরেই ইসাখিলের সেঞ্চুরি অর্জনের স্বপ্ন ভেঙে যায়; তিনি এক রানের ঘাটতিতে ৯২-এ থেমে যান।
মাঠে নাবি ও ইসাখিলের পারস্পরিক সমন্বয় কেবল ব্যাটিংয়ে নয়, বল হাতে নাবির পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট হয়। প্রথম উইকেটটি তিনি সরাসরি থ্রোয়ে রান‑আউটের মাধ্যমে নেন, আর দ্বিতীয়টি তিনি বল হাতে উইকেট নেন, যা দলের জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসাখিলের ক্যাচে নাবির নাম না থাকলেও, তার সুনিপুণ ফিল্ডিং দলকে অতিরিক্ত রানের সুবিধা দেয়।
ম্যাচের আগে নাবি তার ১৯ বছর বয়সী ছেলেকে ক্যাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন, যা দুজনের জন্যই গর্বের একটি মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হয়। এই ক্যাপ হস্তান্তরটি পরিবারিক ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে, যেখানে বাবা‑ছেলে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলতে পারা একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
বিপিএল ছাড়াও নাবি ও ইসাখিল বহুবার নোয়াখালীকে প্রতিনিধিত্ব করে গৃহমাঠে জুটি গড়ে খেলেছেন, তবে এই ম্যাচটি তাদের প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে একসঙ্গে অংশগ্রহণের চিহ্ন বহন করে। নাবি ইতিমধ্যে নোয়াখালীর জন্য বিপিএলের নয়টি সিজন সম্পন্ন করেছেন, আর ইসাখিলের এই ম্যাচই তার বিপিএল ডেবিউ, যা তাকে দেশের শীর্ষ লিগে প্রবেশের দরজা খুলে দেয়।
ইসাখিলের প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, তিনি সেঞ্চুরি না পেলেও দলের স্কোর দ্রুত বাড়াতে মনোনিবেশ করছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি সেঞ্চুরি না পেলেও দলের জন্য বড় লক্ষ্য রাখতে চেয়েছি, তাই দ্রুত রান বাড়াতে চেয়েছি।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার দলীয় চেতনা ও আত্মত্যাগকে তুলে ধরে।
নাবি আউট হওয়ার পর দু’ওভার বাকি থাকলেও, তিনি টিভি স্ক্রিনে দৃশ্যমান হতাশা প্রকাশ করেন, তবে দ্রুতই তা দূর করে নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তার দুইটি উইকেট এবং সরাসরি থ্রোয়ের রান‑আউট নোয়াখালীর জয়কে নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিপিএলের পরবর্তী রাউন্ডে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে এই জয় এবং বাবা‑ছেলের সমন্বয় দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে নাবি ও ইসাখিলের পারস্পরিক সমন্বয় কিভাবে দলের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা নজরে থাকবে।



