19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামধ্যনগরে শিক্ষার্থী পতনের হার কমাতে স্কুল ফিডিংসহ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে

মধ্যনগরে শিক্ষার্থী পতনের হার কমাতে স্কুল ফিডিংসহ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী পতনের হার কমানোর জন্য নেওয়া নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন। গলহা, জমশেরপুর ও মধ্যনগর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিত হয়ে তিনি শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনের শেষে উপদেষ্টা নিজের বাসভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন, যেখানে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে শিক্ষার্থী পতনের হার হ্রাসে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি বজায় রাখা এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জাগ্রত করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, উপদেষ্টা শিক্ষার্থী পতনের মূল কারণ হিসেবে খাবার নিরাপত্তা ও পুষ্টির অভাবকে তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ফলাফল ইতিবাচক দিকের দিকে যাচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সময়ে শিক্ষক ঘাটতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও শিক্ষার মানে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং শীঘ্রই এই ঘাটতি পূরণ হবে।

শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও শর্তাবলি ইতিমধ্যে প্রস্তুত এবং আবেদনকারীদের জন্য স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত করা হবে। খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ফিডিং প্রোগ্রামটি কেবল খাবার সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এতে স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি শিক্ষা এবং পিতামাতার সঙ্গে সমন্বয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এভাবে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খাবার পাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

মধ্যনগর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই নতুন পদক্ষেপের প্রাথমিক ফলাফল ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা খাবার পাওয়ার ফলে স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষকেরা শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার জন্য আরও উদ্যমী হয়েছেন। উপদেষ্টা এই প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা করার ইঙ্গিত দেন।

শিক্ষা খাতে কাজ করা পিতামাতা ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, বিদ্যালয়ের ফিডিং প্রোগ্রাম ও শিক্ষক নিয়োগের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। এভাবে তারা সরাসরি প্রোগ্রামের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন এবং শিক্ষার পরিবেশকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করতে পারবেন।

আপনার সন্তান যদি কোনো কারণবশত স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তবে স্থানীয় বিদ্যালয়ের ফিডিং প্রোগ্রাম ও শিক্ষক নিয়োগের আপডেট সম্পর্কে জেনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই তথ্যগুলো আপনার সন্তানকে শিক্ষার পথে ফিরে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments