22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইলেকশন কমিশন ৫৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনরায় স্বীকৃতি দিল

ইলেকশন কমিশন ৫৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনরায় স্বীকৃতি দিল

ঢাকার এজারগাঁও-এ অবস্থিত ইলেকশন কমিশনের অডিটোরিয়ামে গতকাল অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা শুনানিতে ৫৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনরায় স্বীকৃত হয়েছে। এতে নাগরিক ঐক্য সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সহ বহু দল ও স্বাধীন প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত, যা ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দ্বিতীয় দিন মোট ৭১টি আপিল শোনা হয়। এর মধ্যে ৫৮টি আপিলের অনুরোধ মঞ্জুর করা হয়, সাতটি আপিল প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং বাকি ছয়টি আপিল এখনও মুলতুবি রয়ে গেছে। এই ফলাফল পূর্বের দিনের ৫১টি পুনরায় স্বীকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দুই দিনেই মোট ১০৯টি মনোনয়ন পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে।

মান্না ঢাকা-১৮ আসনের জন্য তার প্রস্তাবিত নথি গ্রহণের পর বগুড়া-২ আসনের নথি অসঙ্গতি দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আপিলের পর ইলেকশন কমিশন গত বিকেলে বগুড়া-২ আসনের তার মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করে, ফলে তিনি দু’টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বাধীন প্রার্থী মোহিউদ্দিনের আপিলও একই দিনে মঞ্জুর হয়। তিনি প্রথম দিন আপিলের তালিকায় মুলতুবি ছিলেন, তবে দ্বিতীয় দিন তার আবেদন গ্রহণ করে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রথম দিনের ৫১টি পুনরায় স্বীকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০৯টি মনোনয়ন পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে। এই সংখ্যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে কমিশনের প্রচেষ্টার সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সপ্তাহের শেষের দিকে সাতটি আপিল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রত্যাখ্যানিতদের মধ্যে ফরিদপুর-৩ আসনের মোর্শাদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ আসনের হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন, ভোলা-২ আসনের তাসলিমা বেগম, রংপুর-৪ আসনের জয়নুল আবেদিন, খুলনা-৪ আসনের এস.এম. আজমাল হোসেন এবং ময়মনসিংহ-৯ আসনের শামসুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত।

পুনরায় স্বীকৃত প্রার্থীদের মধ্যে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (মাগুরা-১) এবং জামায়াত‑ই‑ইসলামির তিনজন প্রার্থী—মো. আবদুল মোমিন (চাঁদপুর-২), মো. মোসলে উদ্দিন ফারিদ (যশোর-২) ও মো. মুজিবুর রহমান আজাদি (জামালপুর-৩) অন্তর্ভুক্ত। এদের পুনরায় স্বীকৃতি পার্টির রাজনৈতিক কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।

অন্যান্য দল থেকে পুনরায় স্বীকৃতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। খলেফাত মজলিসের সাতজন, জাতীয় পার্টির ছয়জন, বাংলাদেশ খলেফাত মজলিসের দুইজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুইজন প্রার্থীকে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দশজন স্বাধীন প্রার্থীর মনোনয়নও পুনরায় স্বীকৃত হয়েছে।

শুনানিগুলো প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়সূচি প্রার্থীদের আপিলের যথাযথ বিবেচনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্ধারিত।

১ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৪৫টি আপিল দাখিল করা হয়েছিল। এই আপিলগুলো মূলত রিটার্নিং অফিসারদের প্রাথমিক স্ক্রুটিনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল, যা এখন ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে।

শুনানিগুলো শনিবার থেকে শুরু হয়ে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সকল পুনরায় স্বীকৃত প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে।

মোট ২,৫৬৮টি প্রার্থীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০৯টি মনোনয়ন পুনরায় স্বীকৃত হয়েছে। অবশিষ্ট প্রার্থীদের আপিলের ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments