বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) শনিবার দ্বিতীয় পর্যায়ের ম্যাচসূচি প্রকাশ করেছে, তবে এতে জাতীয় স্টেডিয়ামে কোনো শীর্ষ লিগের ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে দেশের প্রধান ফুটবল প্রতিযোগিতা—বাংলাদেশ ফুটবল লীগ (বিএফএল)—এর ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ফিরে আসা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
জাতীয় স্টেডিয়াম চার বছরেরও বেশি সময় ধরে শীর্ষ স্তরের ফুটবল ম্যাচের আয়োজন থেকে বাদ পড়েছে। টাকার ১৫৮ কোটি ব্যয় করে সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরও, লিগের দলগুলোকে ঢাকা বাহিরে খেলতে বাধ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি রাজধানীর ভক্তদের জন্য শীর্ষ স্তরের ফুটবলের সরাসরি উপভোগের সুযোগকে সীমিত করে দিয়েছে।
স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ গত বছর জুন মাসে সমাপ্ত হয়। সমাপ্তির পর থেকে ভেন্যুতে এশিয়ান কাপের কোয়ালিফায়ার, এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি, ত্রি-জাতীয় মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট, দুইটি ল্যাটিন বাংলা সুপার কাপ এবং ইন্টার‑ইউনিভার্সিটি ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমি‑ফাইনাল ও ফাইনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শীর্ষ লিগের ম্যাচ এখনও সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিএফএফের এই অনিচ্ছা বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের পরেও অব্যাহত রয়েছে। দেশের দুই বৃহত্তম ভক্তসংখ্যা গড়ে তোলার ক্লাব—আবাহনী ও মোহাম্মদান—উভয়েই জাতীয় স্টেডিয়ামকে নিজস্ব হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
মোহাম্মদান ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামকে হোম ভেন্যু হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছে, আর আবাহনী ক্লাবও মৌখিকভাবে একই রকম আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বিএফএফ উভয় আবেদনই প্রত্যাখ্যান করে, কারণ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারত‑বাংলাদেশ ম্যাচের পর নতুন ঘাস রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ঘাস রোপণের কাজ এখনও শুরু হয়নি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সহকারী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন জানান, ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রকল্পের অনুমোদন নেই এবং বিএফএফও ঘাস পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব জমা দেয়নি।
বিএফএফের সভাপতি তাবিত আওয়াল সাম্প্রতিক সময়ে একটি বাংলা দৈনিককে জানিয়েছেন, ঘাস রোপণ বিলম্বিত হলে শীর্ষ লিগের ম্যাচগুলোকে আবার জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে আনা হবে। এই মন্তব্যটি ক্লাবগুলোর প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে, তবে বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত।
লিগের সব দলই ঢাকায় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, রাজধানীর বাইরে খেলতে গিয়ে ক্লাবের আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং ভক্তদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় আয় হ্রাস পাচ্ছে।
বিএফএফের বর্তমান অবস্থান এবং ঘাস রোপণের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় স্টেডিয়ামে শীর্ষ লিগের ম্যাচের সূচি নির্ধারিত হবে না। তাই ক্লাবগুলো এবং ভক্ত উভয়েরই প্রত্যাশা রয়ে গেছে যে, দ্রুত কোনো সমাধান না হলে লিগের গতি ও আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
সংক্ষেপে, দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচি প্রকাশের পরেও জাতীয় স্টেডিয়ামে শীর্ষ লিগের কোনো ম্যাচ নির্ধারিত হয়নি, এবং ঘাস রোপণের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।



