ওয়েলসের মার্গাম কান্ট্রি পার্কে গৃহ-অন্তর্ভুক্তি রাডার (GPR) ব্যবহার করে গবেষকরা রোমান যুগের একটি বিশাল ভিলা আবিষ্কার করেছেন, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ রোমান ভিলা হিসেবে স্বীকৃত। এই ধ্বংসাবশেষের গভীরতা এক মিটারের কমে, ফলে তা তুলনামূলকভাবে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দলটি স্বনামধন্য সওয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়, নীথ পোর্ট ট্যালবট কাউন্সিল এবং মার্গাম অ্যাবি গির্জার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত।
প্রকল্পের প্রধান ড. অ্যালেক্স ল্যাংল্যান্ডসের নেতৃত্বে গৃহ-অন্তর্ভুক্তি রাডার ব্যবহার করে পার্কের নিচের ভূগর্ভস্থ কাঠামো স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানের ফলাফল দেখায় যে একাধিক সম্ভাব্য আর্কিওলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য উপস্থিত, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ৫৭২ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি ভিলার ছাপ। এই তথ্যের ভিত্তিতে দলটি তৎক্ষণাৎ ত্রুটিমুক্তভাবে সাইটের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়।
মার্গাম পার্কের ঐতিহাসিক হরিণ পার্কের ভূমি আগে কখনো চাষ করা হয়নি বা কোনো আধুনিক নির্মাণ কাজের আওতায় আসেনি। ফলে মাটির নিচে থাকা কাঠামোটি প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং পৃষ্ঠের নিচে এক মিটারের কম গভীরে অবস্থান করার কারণে ক্ষয়প্রাপ্তি কম। গবেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অপ্রকাশিত সাইটের সংরক্ষণে পার্কের পরিবেশগত অবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আবিষ্কৃত ভিলার নকশা একটি করিডোর ভিলা, যার সামনে দুটি ডানা এবং একটি ভেরান্ডা রয়েছে। মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৩ মিটার, এবং সামনের দিকে ছয়টি প্রধান কক্ষের পাশাপাশি দুইটি করিডোর রয়েছে, যা পিছনের দিকে আটটি অতিরিক্ত কক্ষের সঙ্গে যুক্ত। এই পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায় যে ভিলাটি সম্ভবত উচ্চ সামাজিক মর্যাদার কোনো ব্যক্তির বাসস্থান ছিল, যিনি বৃহৎ কৃষি সম্পত্তির কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করতেন।
ভিলার অভ্যন্তরীণ সজ্জা সম্পর্কে অনুমান করা হচ্ছে যে, সেখানে মূর্তি ও মোজাইক ফ্লোরের মতো সূক্ষ্ম অলংকার থাকতে পারে। গবেষকরা এটিকে “প্রতিষ্ঠিত এবং মর্যাদাপূর্ণ” ভবন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা রোমান সময়ের সমৃদ্ধি ও শিল্পকুশলতার সাক্ষ্য বহন করে।
ওয়েলসের রোমান ঐতিহ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আবিষ্কার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পূর্বে দেশের মধ্যে রোমান সময়ের ধ্বংসাবশেষের বেশিরভাগই ছোট আকারের গৃহ বা সামরিক কাঠামো হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তবে এই ভিলা, যা একক কাঠামো হিসেবে সর্ববৃহৎ, দেশের রোমান ইতিহাসের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করতে পারে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে রোমান প্রভাবের গভীরতা প্রকাশ করতে পারে।
এই গবেষণা প্রকল্পটি শুধুমাত্র পেশাদার আর্কিওলজিস্টদের নয়, স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থী এবং সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবকদেরও অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৃহৎ শিক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ। ভূগর্ভস্থ স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা পার্কের ঐতিহাসিক মূল্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ধ্বংসাবশেষের সংরক্ষণে জনসাধারণের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করেছে।
আবিষ্কারের তথ্যটি সম্প্রতি বিসি নিউজের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে, তবে এখনো সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা চলছে। গবেষক দলটি ভবিষ্যতে সাইটের আরও বিশদ অনুসন্ধান, সম্ভাব্য উত্তোলন কাজ এবং সংরক্ষণ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় পর্যটন সংস্থা এবং ঐতিহাসিক সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভিলাটিকে ভবিষ্যতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ধরণের ঐতিহাসিক আবিষ্কার আমাদেরকে অতীতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নতুন সুযোগ দেয়। আপনি কি মনে করেন, মার্গাম পার্কের এই রোমান ভিলা স্থানীয় পর্যটন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে? ভবিষ্যতে এমন ধ্বংসাবশেষের সংরক্ষণ ও গবেষণায় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।



