সিলিকন ভ্যালির এক গবেষণা কেন্দ্রের টেস্ট কিচেনে গৃহস্থালী রোবট Eggie, NEO, Isaac এবং Memo-কে বাস্তব কাজের পরিবেশে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই রোবটগুলো লন্ড্রি ফোল্ড, ডিশওয়াশার লোড, গাছের পানি দেওয়া ইত্যাদি কাজ শিখছে এবং মানব অপারেটরের সহায়তায় কাজ সম্পন্ন করছে।
গৃহস্থালী রোবটের ধারণা বহু বছর আগে থেকেই কল্পনায় ছিল, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেন্সর প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন প্রথমবারের মতো বহুমুখী রোবটগুলো বাড়িতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই প্রচেষ্টার মূল চালিকাশক্তি দুইটি স্টার্ট‑আপ, Tangible AI এবং 1X। Tangible AI-র Eggie এবং 1X-র NEO-কে বিশেষভাবে টেস্ট কিচেনে বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
Eggie, Tangible AI-র সাম্প্রতিক মডেল, প্রথমে একটি কোটের স্ট্যান্ডে জ্যাকেট ঝুলিয়ে দেখিয়েছে, তারপর বিছানা থেকে চাদর খুলে ফেলেছে এবং রান্নাঘরের কাউন্টারটিতে ছড়িয়ে পড়া তরল মুছে ফেলেছে। তবে তার চলাচল চাকার ওপর ভিত্তি করে ধীর এবং কখনো কখনো থেমে থেমে চলা দেখা গেছে।
NEO, 1X-র রোবট, নরম প্যাডেড পা দিয়ে টেস্ট কিচেনে চলেছে। গাছের গাছিতে পানি দিলেও একটুখানি ছিটে গিয়েছে, ব্যবহারকারীকে পানীয় এনে দিল এবং ডিশ ও কাপগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাবিনেটের হ্যান্ডেল ধরতে কিছুটা অসুবিধা হয়েছে, ফলে কিছুটা সাহায্য প্রয়োজন হয়েছে।
দুই রোবটই এখনো যথেষ্ট চটপটে ও সংবেদনশীল, তবে কাজের গতি ও সঠিক গ্রিপিং ক্ষমতা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় নয়। তাদের চলাচল ও কাজের ধরণ দেখিয়ে দেয় যে, রোবটগুলোকে মানবিক নির্দেশনা ছাড়া সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এখনও সময়সাপেক্ষ।
প্রদর্শন চলাকালীন দেখা গেছে, Eggie এবং NEO উভয়ই রিমোট অপারেটরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই মানবিক হস্তক্ষেপের তথ্য প্রচারমূলক ভিডিওতে কম দেখানো হয়, তবে কোম্পানিগুলো স্বীকার করেছে যে বর্তমান পর্যায়ে রোবটের স্বয়ংক্রিয়তা সীমিত।
Tangible AI-র প্রতিষ্ঠাতা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং উল্লেখ করেছেন, “আজকের মানুষ গাড়ি ও বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে; আগামী দিনে রোবটকে তৃতীয় ইচ্ছা হিসেবে যোগ করা স্বাভাবিক হবে”। তার এই মন্তব্য রোবটের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বলা হয়েছে।
যদি সময়ের সীমা না থাকে, তাহলে Eggie বা NEO-র মতো রোবটগুলো পরিবারে শিশুদের সঙ্গে কাজের ভার কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে রুটিন কাজ যেমন ডিশওয়াশার লোড করা, গাছের পানি দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে রোবটের উপস্থিতি দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি আনতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই রোবটগুলো বহু কাজ একসাথে করতে সক্ষম, তবে এখনও লন্ড্রি ফোল্ড করা, ডিশওয়াশার লোড করা ইত্যাদি কাজের সময় সঠিক গ্রিপ ও দ্রুততা অর্জনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
কোম্পানিগুলো ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এই রোবটগুলোকে ভোক্তাদের বাড়িতে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে এবং প্রি‑অর্ডার গ্রহণ শুরু করেছে। বাজারে প্রবেশের আগে আরও টেস্ট ও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, গৃহস্থালী রোবটের উন্নয়ন দ্রুতগতি পেয়েছে, তবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়তা ও মানবিক হস্তক্ষেপের ভারসাম্য রক্ষা করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে রোবটের ক্ষমতা বাড়লে গৃহস্থালী কাজের ধরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।



